হেবরনে ইসরায়েলি সামরিক অবরোধে স্থগিত হলো হাইদারের বিয়ে, বাস্তুচ্যুত ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনিদের জীবন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বছর বয়সী হাইদার ইয়াহিয়া তামিমির বিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে।
হাইদার তাঁর বাড়ি প্রস্তুত করেছিলেন, নতুন আসবাব কিনেছিলেন, বিয়ের পোশাক বেছে নিয়েছিলেন এবং প্রায় ১ হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন। চার মাসের প্রস্তুতির পর শুক্রবার তাঁর বাগ্দত্তা রুবার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
পরিবর্তে তাঁকে আল-জালাদা মহল্লায় নিজের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং বিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
হাইদার হাজার হাজার ফিলিস্তিনির একজন, যাঁরা হেবরনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২৩ অক্টোবর শহরের পশ্চিম প্রবেশপথে একটি তল্লাশিচৌকিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী দুই ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যা করার পর এই অভিযান শুরু হয়। দুই বন্দুকধারীকেও ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেবরনে অবিলম্বে অবরোধের নির্দেশ দেন। ইসরায়েলি বুলডোজার হামলার জায়গার আশপাশের ভবন ধ্বংস করে এবং হামলাকারীদের বসবাসকারী আল-জালাদা ও এইন দেইর বাহা মহল্লায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়।
হেবরন পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
হাইদার প্রায় এক বছর ধরে হেবরনে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হাসপাতালে রেডিওলজি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোজের আয়োজনসহ শুক্রবার বিয়ে উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
তিনি ও তাঁর বাগ্দত্তা একসঙ্গে নতুন বাড়ির আসবাব বেছে নিয়েছিলেন, পাশাপাশি তাঁর বিয়ের পোশাকও বেছে নিয়েছিলেন।
কিন্তু ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হামলার পর হেবরনকে বদ্ধ সামরিক এলাকা ঘোষণা করা হলে হাইদার ও তাঁর পরিবারকে আল-জালাদা ও এইন দেইর বাহার অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা মাঝরাতে যতটুকু বহন করা যায়, তা নিয়ে বেরিয়ে যান।
বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা সবকিছু বাড়ির ভেতরেই রয়ে গেছে, তাঁদের নাগালের বাইরে। হাইদার বলেন, তাঁরা জানেন না কবে ফিরতে পারবেন।
বর কাছের একটি জায়গায় গিয়ে বাড়িটি দেখতে পেরেছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির কারণে আর কাছে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, বাড়ির দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, তাঁর স্বপ্ন এখানেই পূরণ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে।
তিনি বাড়ির আশপাশে ইসরায়েলি সৈন্যদের দেখেছেন এবং বলেন, আত্মীয়রা তাঁকে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়েছেন, যেখানে সৈন্যরা তাঁর বাড়িতে ঢুকছে। বাড়ির বর্তমান অবস্থা অজানা।
বিয়ের নতুন তারিখ এখনো ঠিক করেনি এই যুগল। তার আগে তাঁদের জানতে হবে কবে তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারবেন।
স্থানীয়দের ধারণা, ইসরায়েলি অবরোধে ১০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-জালাদায় মুসলিম তীর্থযাত্রা সেবায় বিশেষায়িত ভ্রমণ সংস্থা রুকন আল-আসালার কার্যালয়ও এর মধ্যে রয়েছে। সংস্থার ব্যবস্থাপক কামাল আল-শরিফ (৩৫) ১৬ বছর ধরে বাবার সঙ্গে কাজ করা কার্যালয়ে পৌঁছাতে পারছেন না।
সংস্থাটি বুধবার সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ১৫ জনের ওমরাহ তীর্থযাত্রার আয়োজন করছিল। সম্ভাব্য যাত্রীদের পাসপোর্ট কার্যালয়ের ভেতরে থাকায় এবং অবরোধ কবে শেষ হবে তা অনিশ্চিত থাকায় সেই সফর স্থগিত বা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কার্যালয়ের ভেতরে থাকা নথির মধ্যে রয়েছে সাতটি পাসপোর্ট, যেগুলো ২২ অক্টোবর চীনা দূতাবাস থেকে এসেছিল বলে কামাল জানিয়েছেন। এগুলো সেই ব্যবসায়ীদের, যাঁরা ২৬ অক্টোবর চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের ভিসা থাকলেও পাসপোর্ট না থাকায় তাঁরা ভ্রমণ করতে পারেননি।



