যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা বাড়লেও ছাড় ছাড়া চুক্তি এখনো দূরে
ওয়াশিংটন ও অটোয়া গত এক সপ্তাহে বাণিজ্য আলোচনার গতি বাড়িয়েছে, তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত ছাড় দেয়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি কাছাকাছি, এমন ধারণা এখনো বাস্তবতা থেকে দূরে বলেই আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২১ অক্টোবর ফোনে কথা বলার পর আলোচনার এই গতি বেড়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, যিনি গ্রীষ্মে আগের এক দফা আলোচনা ভেঙে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন, এবং কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ তারপর থেকে নিয়মিত কথা বলছেন। আলোচনার খবর জানেন এমন দুজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কথা জানিয়েছেন। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল অটো ও ইস্পাতসহ যেসব খাতে ট্রাম্পের শুল্ক কানাডার জন্য শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
কানাডা সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত আলোচনা অনানুষ্ঠানিক পর্যায়েই রয়েছে।
সোমবার অটোয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ফরাসি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে কার্নি এই বাড়তি যোগাযোগকে ‘আন প্যতি আঁতঁসিফিকাসিওঁ’ বা ছোটখাটো গতি বৃদ্ধি বলে বর্ণনা করেছেন। এই যোগাযোগ বৃদ্ধি দুই সীমান্তেই বহু শিরোনামের জন্ম দিয়েছে এবং হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, চুক্তি কাছাকাছি। রোববার মিশিগানে এক সমাবেশে ট্রাম্প পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য বিবাদ খুব শিগগিরই মিটে যাবে।
তবে ট্রাম্পের মতো কার্নির এই মুহূর্তে ছাড় দেওয়ার রাজনৈতিক তাগিদ কম। তিনি আগস্টে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশের ভেতরে জনমতে এগিয়ে রয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি মন্ট্রিয়লে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে স্বাগত জানাবেন।
সরকারি কর্মকর্তা, শিল্প খাতের প্রতিনিধিসহ আলোচনার খবর জানেন এমন প্রায় ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছেন, কোনো পক্ষই তাদের মূল দাবি থেকে সরে আসেনি। অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে অটো শুল্ক কমানোর কার্নির দাবি এবং কানাডার মদ ও দুগ্ধ বাজারে আরও প্রবেশাধিকারের ট্রাম্পের দাবি।
নতুন ছাড় বা বাস্তব অগ্রগতির অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই যোগাযোগ বৃদ্ধি হয়তো তাৎক্ষণিক চুক্তির চেয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ প্রশমিত করার হোয়াইট হাউসের চেষ্টা বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো মীমাংসা আসতে সপ্তাহ, এমনকি মাসও লেগে যেতে পারে।
ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর ধারণা কানাডার সঙ্গে চুক্তি হবে। নির্বাচনের আগে চুক্তি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, তিনি জানেন না।
কানাডাও চুক্তি কাছাকাছি বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক। কার্নি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, পারস্পরিক আমদানিতে শুল্ক কমানোর চুক্তির সময় নিয়ে অটোয়া উদ্বিগ্ন নয়। সোমবার অটোয়ায় এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার রাষ্ট্রদূত মার্ক ওয়াইজম্যান এবং কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিট হোয়েকস্ট্রা দুজনই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সময় লাগলেও চুক্তি হবে।
ওয়াইজম্যান বলেছেন, দীর্ঘ সময়সীমা মাথায় রাখতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, কেউই পাড়া ছেড়ে যাচ্ছে না, তাই এটি কাজ করবেই। সম্পর্কের অবস্থা বেশ ভালো বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
এর আগে এই গ্রীষ্মে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। ট্রাম্প কার্নির সঙ্গে শুল্ক কমানোসহ প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর ওয়াশিংটন ও অটোয়া প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে পরস্পরের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প মদসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য নিষিদ্ধ করেন এবং জানুয়ারির মধ্যে মতভেদ না মিটলে আরও কঠোর শুল্কের হুমকি দেন।
কানাডা অটো, ট্রাক, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ প্রধান খাতগুলোতে কম শুল্ক চাইতে থাকায় আগের আলোচনা আটকে যাওয়া বিষয়গুলো এখনও রয়ে গেছে। অন্টারিওতে তৈরি ভারী ট্রাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমাবে কি না, তা নিয়েও আগের আলোচনা আটকেছিল।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, লুটনিক এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কানাডার প্রতিপক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে বাণিজ্য বিভাগ ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
কানাডার শুল্ক মার্কিন ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয় এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে। মেইনের সিনেটর সুসান কলিনসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান এই শুল্কের বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্পের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট রোববার ফক্স নিউজে বলেছেন, দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি এবং আলোচনায় লুটনিকের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেছেন, কেউই চুক্তি প্রত্যাশা করে না।




