ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে সন্দেহভাজন হাঙরের আঘাতে কায়াক উল্টে গেল, সাঁতরে তীরে উঠলেন জেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে সন্দেহভাজন হাঙরের আঘাতে কায়াক উল্টে যাওয়ার পর এক জেলেকে সাঁতরে তীরে উঠতে হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে ক্যামব্রিয়ার লেফিংওয়েল ল্যান্ডিংয়ের কাছে, তীর থেকে প্রায় এক মাইল দূরে।
ক্যামব্রিয়া ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু একটা তাঁর কায়াকের নিচের দিকে আঘাত করে এবং তাঁকে পানিতে ফেলে দেয়।
তিনি আবার কায়াকে উঠে তীরের দিকে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু কায়াকের গায়ে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় ভেতরে পানি ঢুকতে থাকে, ফলে বাকি পথ তাঁকে সাঁতরে যেতে হয়।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, জেলেটি আহত না হয়েই তীরে পৌঁছান।
তিনি তীরে পৌঁছানোর পর দমকলকর্মীরা উদ্ধার নৌকা পাঠিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কায়াকটি উদ্ধার করেন। তাঁর মাছ ধরার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও উদ্ধার করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচের শার্ক ল্যাবের ড. ক্রিস লো ক্ষতির ছবি পর্যালোচনা করে বলেছেন, হাঙরই দায়ী বলে সন্দেহ করা যুক্তিসংগত। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী এমনটাই জানানো হয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, হাঙরের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
একই এলাকায় এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১২ সালের মে মাসে লেফিংওয়েল ল্যান্ডিংয়ের কাছে একটি হাঙর মাছ ধরার কায়াকে আঘাত করেছিল; তাতে জেলে জোই নোচ্চি পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর কায়াক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের নথি ও তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আহত হননি।
আরেক জেলে ডেভিড জামোরা ২০১৯ সালে ক্যামব্রিয়ার কাছে এমনই এক ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লেফিংওয়েল ল্যান্ডিং থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে আনুমানিক ১০ ফুট লম্বা একটি সাদা হাঙর তাঁর কায়াকে কামড় দিয়েছিল। তিনি পানিতে পড়ে গেলেও আবার কায়াকে উঠতে পারেন এবং কাছের এক নৌকার আরোহী তাঁকে উদ্ধার করেন। তিনিও আহত হননি।
ক্যালিফোর্নিয়ার মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা হিসাব অনুযায়ী, ১৯৫০ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে ২৩৩টি হাঙর-ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি কায়াক বা ক্যানো সংশ্লিষ্ট।
অঙ্গরাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু সাদা হাঙরের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় অনুসন্ধানী কামড় থাকতে পারে, যখন প্রাণীটি পানিতে অপরিচিত বস্তু, কায়াকসহ, পরীক্ষা করে। এমন আচরণের অর্থ এই নয় যে হাঙরটি কোনো মানুষকে শিকার করার চেষ্টা করছিল।
সোমবারের সন্দেহভাজন ঘটনার পর ক্যামব্রিয়া ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সমুদ্র ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে, চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং হাঙর সক্রিয়ভাবে দেখা গেলে পানিতে না নামতে অনুরোধ করেছে। তাৎক্ষণিক হুমকি বা জরুরি অবস্থায় ৯১১ নম্বরে ফোন করার পরামর্শও দিয়েছে বিভাগটি।




