নিউইয়র্কে সেতুতে গুলিতে সহকর্মী নিহত: আদালতে সাবেক গোয়েন্দার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, পাশে শত শত কন এডিসন কর্মী

নিউইয়র্ক সিটিতে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়েছেন ভিক্টর রোমেরো (৬২)। জর্জ ওয়াশিংটন সেতুতে গুলিতে কন এডিসন কর্মী কোরান আরভাইনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগের পর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানির সময় নিহতের সহকর্মীরা আদালতকক্ষ ভরে উপস্থিত ছিলেন।
রোমেরো সাবেক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা। তিনি একটি হেজ ফান্ডের চালক ও নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার তিনি তাঁর আইনজীবী দল ও নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে আদালতে আসেন এবং বাইরে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
নিহত কোরান আরভাইনের বয়স ছিল ৪৬ বছর। তিনি ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস কোম্পানি কন এডিসনে কাজ করেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার সকালে কয়েক ডজন কন এডিসন কর্মী নিহত সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আদালতে যান। এক কর্মী আদালতের বাইরে বলেন, ‘আমরা এখানে ভাইয়ের মতো।’ তিনি জানান, আরভাইনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল, দুই পরিবার একসঙ্গে সময় কাটাত এবং তাঁদের সন্তানরাও বন্ধু ছিল।
একই দিন লোয়ার ম্যানহাটনের ফোলি স্কয়ারে একটি সমাবেশে কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। সেখানে কন এডিসন কর্মীদের পাশাপাশি আরভাইনের পরিবার ও বন্ধুরা ছিলেন; নিহতের স্ত্রী প্যাট্রিসিয়া আরভাইন ও বোন জেরিয়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, জর্জ ওয়াশিংটন সেতুর দিকে যাওয়ার পথে দুজনের গাড়ির মধ্যে প্রায় সংঘর্ষের পর রোমেরো আরভাইনের গাড়িকে আক্রমণাত্মকভাবে অনুসরণ করেন। নজরদারি ভিডিওতে তাঁকে আরভাইনের গাড়ির পাশে এসে অন্তত একটি গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে, ২০ অক্টোবর।
গুলির পর রোমেরোকে ধরতে কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালায়। আরভাইন কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মারা যান বলে জানানো হয়েছে।
রোমেরো এর আগে ১০ লাখ ডলার জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং প্রাথমিক প্রথম মাত্রার অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। এখন তাঁর সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ গঠনের শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৩ নভেম্বর। তাঁর আইনজীবী অ্যালান আব্রামসনের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।




