ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব বাংলাদেশেও: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, নদীবন্দরে ১ নম্বর

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টির উপকূলে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরির ইয়ানামের কাছে এর ‘ল্যান্ডফল’ হয়, যেখানে ঝড় বইছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে, দমকায় যা ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছিল।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় অধিদপ্তর জানায়, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।



