কমনওয়েলথ সম্মেলনে দাসপ্রথার উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন রাজা চার্লস

ব্রিটেনের রাজা চার্লস কমনওয়েলথ নেতাদের সঙ্গে সম্মেলনে দাসপ্রথার উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। ক্যারিবীয় সফর শুরু করার সময় তিনি এই কথা বলেন। এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ক্যারিবীয় দেশগুলো আটলান্টিকজুড়ে দাসপ্রথার নৃশংসতার জন্য ব্রিটেনের ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান নতুন করে জানাচ্ছে।
রাজা বাহামায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিনি ক্লিফোর্ড পার্কে একটি যুব সমাবেশে যোগ দেন। এই স্থানেই ১৯৭৩ সালে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা পায়।
চার্লসের নয় দিনের সফরে গায়ানায় একক রাষ্ট্রীয় সফরও রয়েছে। সফর শেষ হবে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় আয়োজিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (চোগম) তাঁর সভাপতিত্বের মধ্য দিয়ে।
মঙ্গলবার বাহামায় দেওয়া ভাষণে চার্লস বলেন, ‘আজ বাহামার সংস্কৃতির সেরা কিছুর কিছু অংশ, সবচেয়ে আনন্দময়, সবচেয়ে আশাবাদী, সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ জন্ম নিয়েছে অন্ধকার থেকে।’ তিনি বলেন, ‘এই দ্বীপগুলোতে এবং এর বাইরে অতীতের মহা দুর্ভোগ স্বীকার করা আমাদের জন্য সঠিক কাজ, একই সঙ্গে আমরা বর্তমানের সাফল্যে আনন্দ করি এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন সুযোগ গড়ি।’
রাজা বলেন, আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়ায় চোগম নেতারা দাসপ্রথার উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
তবে বাহামা ন্যাশনাল রিপারেশনস কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজার মন্তব্য ‘ন্যায়বিচারের দাবির তুলনায় অনেক কম’। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের সংস্কৃতি অন্ধকার থেকে জন্ম নেয়নি; আমাদের সংস্কৃতি জন্ম নিয়েছে উদ্যোগ থেকে এবং ভয়াবহতা, মানসিক আঘাত ও অবমাননার পরও টিকে থাকার ইচ্ছা থেকে।’
কমিটি আরও বলে, ‘রাজপরিবার এবং ব্রিটিশ সরকারই অন্ধকারের জন্য দায়ী ছিল। তাঁর মন্তব্য ন্যায়বিচারের দাবি—পূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা—পূরণ করে না এবং তিনি যে মুকুট পরেন, তার নামে সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও বলে না।’
কমিটির সভাপতি ড. নিয়াম্বি হল ক্যাম্পবেল-ডিন গার্ডিয়ানকে বলেন, রাজা তাঁর ভাষণে ‘বাহামার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার’ চেষ্টা করেছেন বলে তিনি প্রশংসা করেন, তবে তাঁর কথাগুলো ‘ফাঁপা সান্ত্বনার মতো’ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এই গর্বের কারণেই বাহামার মানুষ দেওয়া প্রস্তাবের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ার যোগ্য।
ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি রিপারেশনস কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক হিলারি বেকলস বলেন, ক্যারিবীয়রা যা খুঁজছে তা হলো ‘মালিকানাভিত্তিক ন্যায়বিচার, যার শুরু অনুতাপ দিয়ে’। তিনি বলেন, ক্যারিবীয় তরুণদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজার উচিত নিজের বিবেকের গভীরে খুঁজে তাদের সেই ক্ষমতায়ন দেওয়া, যা তিনি নিজের সন্তানদের দিতেন, যাতে তারা দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বে টিকে থাকতে পারে।
চার্লস বৃহস্পতিবার গায়ানায় যাবেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইরফান আলী সম্প্রতি রাজাকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজা তাঁর মন্ত্রীদের পরামর্শ অনুসরণ করেন। প্রতিষ্ঠিত নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার তাঁকে ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দেয়নি বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অ্যান্টিগুয়ায় কমনওয়েলথ নেতাদের সমাবেশে চার্লসের সঙ্গে যোগ দেবেন।
২০২১ সালে বার্বাডোসের প্রজাতন্ত্রে ঐতিহাসিক রূপান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চার্লস দাসপ্রথার ‘ভয়াবহ নৃশংসতা’ স্বীকার করে বলেন, এটি ‘আমাদের ইতিহাসকে চিরকাল কলঙ্কিত করে’। এক বছর পর রুয়ান্ডায় আয়োজিত কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগত আবিষ্কারের যাত্রায় রয়েছেন এবং ‘দাসপ্রথার স্থায়ী প্রভাব সম্পর্কে নিজের উপলব্ধি আরও গভীর’ করে চলেছেন।
বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেন, স্বাগতিক সরকারগুলোর অনুরোধে রাজার কর্মসূচি মূলত আধুনিক অংশীদারত্ব ও ভবিষ্যতের সুযোগগুলো তুলে ধরার দিকে মনোযোগ দেবে, যেগুলো আজকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে রূপান্তরমূলক প্রভাব ফেলছে। মুখপাত্র বলেন, এই সফর রাজার জন্য নতুন যাত্রা হলেও আজীবন যাত্রার ধারাবাহিকতা, যেখানে তিনি অতীতের সবচেয়ে লজ্জাজনক দিকগুলো নিয়ে যুক্ত হতে, বুঝতে ও শিক্ষা দিতে চেয়েছেন।




