ক্যাফেতে মগের বাধ্যবাধকতা থেকে পিছু হটল নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার, বাতিল হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানার আইন

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) সরকার ক্যাফেতে বসে পান করা গ্রাহকদের মগ ও গ্লাসের বিকল্প দেওয়ার বাধ্যবাধকতার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছে। ক্রিস মিনসের সরকার এমন একটি আইনও বাতিল করতে যাচ্ছে, যেখানে পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপ প্রকল্পে অংশ না নিলে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানার ঝুঁকি ছিল।
আইনটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার এক সপ্তাহ পরই লেবার সরকার অবস্থান বদলাল। ছোট ব্যবসায়ী ও নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
এই সংস্কারটি ছিল প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে মিনস সরকারের পরিকল্পনার অংশ। সিডনির ল্যান্ডফিল (আবর্জনা ফেলার জায়গা) ২০৩০ সাল নাগাদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
বাতিল হতে যাওয়া আইন অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ক্যাফেগুলোকে সেখানে বসে পান করা গ্রাহকদের মগ বা গ্লাস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া বাধ্যতামূলক হতো।
এনএসডব্লিউর পরিবেশমন্ত্রী পেনি শার্প বুধবার সকালে ২জিবি রেডিওকে বলেন, মগ-গ্লাসসংক্রান্ত আইন এবং সম্ভাব্য ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান সরকার প্রত্যাহার করবে। তিনি বলেন, 'আমরা জানি ছোট ব্যবসাগুলো চাপে আছে এবং আমরা চাই তারা যেভাবে প্রয়োজন, সেভাবেই ব্যবসা চালাতে পারুক।'
শার্প আরও বলেন, 'পরিকল্পনা সব সময়ই ছিল যে ব্যাপক ছাড় থাকবে।'
তবে পৃথক কিছু সংস্কার বহাল থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের গ্রাহকদের নিজস্ব পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপ গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা—যদি কাপটি 'পরিষ্কার' হয়—এবং ২০২৮ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য টেকঅ্যাওয়ে কাপ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার আইন।
গত সপ্তাহে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ প্রথম পৃষ্ঠায় ''নাপ' টু দ্য কাপ' শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার খরচ নিয়ে সমালোচনা করে একাধিক ছোট ব্যবসায়ীর বক্তব্য ছাপা হয়।
মঙ্গলবার ২জিবিতে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) ক্রিস মিনস আইনটির পক্ষে বলেছিলেন, সরকার 'কোথাও কোনো জায়গায় ডিসপোজেবল কাপ তুলে দিচ্ছে না'। তিনি বলেন, 'আমি ডিসপোজেবল কাপ ব্যবহার করি, বেশির ভাগ মানুষই ডিসপোজেবল কাপ ব্যবহার করে। আমি জানি না আমরা নীতিটি যথেষ্ট ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছি কি না।'
বুধবার শার্প বলেন, তিনি মিনসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা বললাম: দেখুন, এটা কি বাধ্যতামূলক করা দরকার? না, দরকার নেই, এবং তাই এটা পরিষ্কার করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।' শার্প এনএসডব্লিউ পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে (ইপিএ) একটি 'নিয়ন্ত্রণমূলক অভিপ্রায়ের বিবৃতি' জারি করতে বলেছেন, যাতে স্পষ্ট হয় সরকার কিছু পরিবর্তন নিয়ে এগোচ্ছে না।
আইনটি ২০২৭ সালের মার্চের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হবে না। পার্লামেন্ট ভেঙে যাওয়ার আগে মাত্র দুটি অধিবেশন সপ্তাহ বাকি আছে।
মঙ্গলবার এনএসডব্লিউর বিরোধী দল বলেছিল, আগামী বছর নির্বাচিত হলে তারা এই আইনগুলো প্রত্যাহার করবে, যেগুলোকে তারা 'এনএসডব্লিউর ব্যবসাগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া আরেক স্তরের নিয়ন্ত্রণ' বলে দাবি করেছে। বিরোধী জোট ও ওয়ান নেশনের চাপের মুখে রয়েছে লেবার; দুই দলই ছোট ব্যবসাবান্ধব প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাচ্ছে এবং বেতন কর (পেরোল ট্যাক্স) উল্লেখযোগ্য হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।




