রাজশাহীর ১৫০ শয্যার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র ছয়জন মেডিকেল অফিসার, পাঁচ-ছয় মাস ধরে নষ্ট ল্যাবের প্রধান মেশিন
রাজশাহীর ১৫০ শয্যার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চলছে চিকিৎসক সংকট, অকেজো যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি আর জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতিদিন রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবার পরিধি বাড়লেও চিকিৎসকের পদ বাড়েনি। ফলে বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শারিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ ১০টি, যার মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদটি শূন্য। তিনি বলেন, ছয়জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগের রোগী দেখা ছাড়াও ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা চালু রাখতে হয়।
ডা. শারিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক সংকট ও সেবার পরিধির সঙ্গে পদের সামঞ্জস্য না থাকায় নিয়মিত সেবা দিতে তাঁদের ওপর চরম চাপ তৈরি হচ্ছে। পদের সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা আরও মানসম্মত সেবা পেতেন বলে তিনি জানান।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির ঘাটতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভোগান্তি বেড়েছে। হাসপাতালের এক ল্যাব সাপোর্ট স্টাফ জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে ল্যাবরেটরির প্রধান অ্যানালাইজার মেশিনে সমস্যা থাকায় শুধু আরবিএস ও ইলেক্ট্রোলাইট ছাড়া অন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে।
ওই ল্যাব সাপোর্ট স্টাফের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে হাসপাতালেই রোগীদের নানা ধরনের পরীক্ষা করা হতো। এখন বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমস্যা, ওষুধের ঘাটতি ও জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরাও। চিকিৎসা নিতে আসা রাজশাহী নগরীর এক বাসিন্দা বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি দেখতে অনেক বড় হলেও ভেতরে ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম; হাসপাতালে এসে জানা যায় অধিকাংশ পরীক্ষাই সেখানে হয় না, আর ওষুধও কিনতে হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে।
সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মোহা. মজিবুর রহমান বলেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁরা ১০ জন চিকিৎসক দিয়ে বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও জরুরি—তিন ধরনের সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও ভবন সংস্কারের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।



