গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মোবাইলে চার্জ দিতে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ধরা পড়লেন ছেলে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাবা আব্দুস সামাদকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে মুঠোফোনে চার্জ দিতে গিয়েছিলেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাবাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
নিহতের স্বজন তানজিম আহমেদ পুষ্প জানান, বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পর আনোয়ার আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আনোয়ার এক প্রতিবেশীর বাড়িতে মুঠোফোনে চার্জ দিতে যান। তাঁকে দেখে বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের খবর দেন।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আনোয়ার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে নেশার টাকা এবং পারিবারিক কলহের জেরে বাবা আব্দুস সামাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় ছেলে আনোয়ারের। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় ও বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই আব্দুস সামাদের মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুস সামাদের বয়স ৬০ বছর এবং অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বয়স ৩৫ বছর।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আনোয়ার পলাতক ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে দুই দিনের আত্মগোপনের অবসান ঘটে আনোয়ারের। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।




