ফাইজারগেট তদন্তে ভন ডার লেয়েনকে নিয়ে এখনো প্রশ্ন কৌঁসুলিদের, ব্যক্তিগত জবানবন্দি দেননি বলে সূত্রের দাবি
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন এখনো ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসকে (ইপিপিও) ব্যক্তিগতভাবে জবানবন্দি দেননি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই ব্যক্তির দাবি, করোনাভাইরাসের টিকা কেনা নিয়ে তদন্তে এই জবানবন্দি এখনো বাকি।
২০২৪ সালে ইপিপিও বেলজিয়ামের নেতৃত্বে চলা তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তটি কমিশন প্রধান ও ফাইজার প্রধান নির্বাহী আলবার্ট বুরলার মধ্যে টিকা নিয়ে আলোচনায় অভিযোগ ওঠা ফৌজদারি অনিয়ম নিয়ে। পলিটিকোর দেখা আইনি নথি অনুযায়ী, কৌঁসুলিরা ভন ডার লেয়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ, এসএমএস ধ্বংস, দুর্নীতি ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তদন্ত করছেন।
ভন ডার লেয়েন জবানবন্দি দেননি—এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেনিয়ার বলেন, তথ্য পরিষ্কার করতে ও ঘটনা যাচাই করতে কমিশন ইপিপিওর সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময়ই তাঁর দায়িত্ব ও কমিশন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সময়ের সীমার মধ্যে যেকোনো খোলা প্রশ্নের জবাব দিতে খুব সহযোগিতাপরায়ণ ছিলেন এবং আছেন।
ইপিপিওর প্রধান কৌঁসুলি লরা কোদ্রুতা কোভেসি পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি একাধিকবার এমন ইইউ কর্মকর্তাদের দেখেছেন, যাঁরা তাঁর দপ্তরের তলবে সাড়া দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কিছু রাজনীতিক মনে করেন তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে; কাউকে জবানবন্দির জন্য ডাকা হলে তাঁকে আসতে হয়।
ভন ডার লেয়েন তাঁদের একজন কি না জানতে চাইলে কোভেসি বলেন, তিনি নির্দিষ্ট তদন্ত নিয়ে মন্তব্য করবেন না।
২০১৭ সালে গঠিত ও ২০২১ সাল থেকে কার্যকর ইপিপিওর কাজ ইইউ তহবিলসংক্রান্ত অপরাধ খুঁজে বের করা। কোভেসি শুক্রবার তাঁর সাত বছরের মেয়াদ শেষ করছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর উত্তরসূরি জার্মান কৌঁসুলি আন্দ্রেস রিটারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ইপিপিওকে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য রাখা।
কোভেসি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ইপিপিও কাজ ঠিকমতো করছে বলেই তাকে ‘নরমভাবে মেরে ফেলা’ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এর পেছনে তিনি তিনটি কারণের কথা বলেছেন—দীর্ঘদিনের অর্থসংকট, সংস্থাটির আইনি কাঠামো সংশোধনে বিলম্ব এবং জটিল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো, যা তাঁর ভাষায় কৌঁসুলিদের জীবন জটিল করা নিয়ে অন্তহীন আলোচনার দিকে নিয়ে যায়।
কোভেসির ভাষায়, ইপিপিও কৌঁসুলিদের ভয় দেখানোর সবচেয়ে স্পষ্ট চেষ্টা হয়েছিল গ্রিসে। গত বছর সেখানে কৃষি তহবিল কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়েছিল। ক্ষমতাসীন নিউ ডেমোক্রেসি দলের চার সংসদ সদস্যের মামলা এখন আদালতে চলছে এবং তাঁরা সবাই নিজেদের নির্দোষ বলছেন।
গত মে মাসে ইপিপিও কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠায়—গ্রিস সরকারের পক্ষ থেকে ইইউ কৌঁসুলিদের গ্রিক আইনপ্রণেতাদের তদন্তে বাধা দেওয়ার পদক্ষেপ এবং ইপিপিওর অনুরোধে ইউরোপীয় প্রতিনিধি কৌঁসুলিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ নবায়ন করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের অস্বীকৃতি নিয়ে। কোভেসি সতর্ক করেছিলেন, এর ফলে ইপিপিও বিধিমালার ১৬ অনুচ্ছেদের আওতায় গ্রিসের ইইউ তহবিল কাটা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস ‘নির্বাচিত তথ্য ফাঁসের’ অভিযোগ তুলে ইপিপিওর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যার জবাবে কোভেসি বলেন, বাস্তবে যা ঘটেছে তা নিয়ে আলোচনার বদলে ইপিপিও রাজনীতি করছে বলে দোষারোপের জন্যই এই কোলাহল তৈরি করা হয়েছে।




