আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের অংশীদারত্ব আট মাসে দ্বিগুণ, ২৯ হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সঙ্গে কাজ করা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সংখ্যা গত আট মাসে দ্বিগুণ হয়েছে বলে অভিবাসন সংস্কারপন্থী সংগঠন এফডব্লিউডি ডট ইউএসের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আইসিইর ‘২৮৭(জি)’ কর্মসূচি বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার আওতায় অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংগঠনটি সংস্থাটির প্রকাশ্য নথি এবং ইউসি বার্কলে ও ইউসিএলএভিত্তিক ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের অনুরোধে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে ২৯ হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে আইসিই দায়িত্ব দিয়েছে। এই সংখ্যা আইসিই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া ১১ হাজার ৬০০ নির্বাসন কর্মকর্তার চেয়ে অনেক বেশি।
এফডব্লিউডি ডট ইউএসের গবেষণা ও নীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেলিসিটি রোজ বলেন, এই বিশ্লেষণ দেখায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন প্রয়োগে এসব অংশীদারত্ব কত বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এনপিআরকে তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তা প্রশাসনের অপেক্ষাকৃত নীরব প্রয়োগ পদ্ধতির একটি প্রধান হাতিয়ার; শিকাগো ও মিনিয়াপোলিসে দেখা বড় শহুরে অভিযানের বদলে এখন ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত মহাসড়কে গাড়ি থামানো হচ্ছে। কর্মসূচিটি ১৯৯০-এর দশকে ক্লিনটন প্রশাসনের সময় তৈরি হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার আগ পর্যন্ত এর ব্যবহার ছিল খুব কম।
এসব অংশীদারত্বের সবচেয়ে প্রচলিত ও আক্রমণাত্মক ধরন ‘টাস্ক ফোর্স মডেল’ স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ দপ্তরগুলোকে অভিবাসন গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। বিনিময়ে, আইসিইর সঙ্গে সই করা চুক্তিতে বর্ণিত ২৮৭(জি) কার্যক্রমে সক্রিয় ও ধারাবাহিক অংশগ্রহণ বজায় রাখলে স্থানীয় সংস্থাগুলো নতুন গাড়ি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োগসংক্রান্ত কাজে খরচের জন্য অর্থ পায়।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন কমাতে ২৮৭(জি) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
এফডব্লিউডি ডট ইউএসের হিসাবে, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মিলে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে ২৮৭(জি) কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে হওয়া ৪৭ হাজারের বেশি অভিবাসন গ্রেপ্তারের প্রায় অর্ধেক করেছে। দুই অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা স্থানীয় পুলিশকে এসব চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করেছেন এবং ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে আক্রমণাত্মক প্রয়োগ শিরোনাম হয়েছে।
সাধারণত আক্রমণাত্মক প্রয়োগের জন্য পরিচিত নয় এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার বেড়েছে। ওয়াইয়োমিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ২০২৬ সালের এপ্রিলে অঙ্গরাজ্যটির মোট অভিবাসন গ্রেপ্তারের ৭৭ শতাংশ করেছেন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে ৬০ শতাংশের বেশি করেছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারে জুন মাসে এই কর্মসূচির আওতায় হয়েছে ৬০ শতাংশ গ্রেপ্তার এবং ওকলাহোমায় জুনে অভিবাসন গ্রেপ্তারের প্রায় ৫০ শতাংশ করেছেন অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় পুলিশ। ওকলাহোমা হাইওয়ে প্যাট্রল তার সব ট্রুপারকে ২৮৭(জি)তে অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে তাঁদের কর্মকর্তারা অঙ্গরাজ্যের মহাসড়কে চালককে থামিয়ে অভিবাসন গ্রেপ্তার করতে পারেন।
ওকলাহোমা পলিসি ইনস্টিটিউটের অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি বিশ্লেষক গ্যাব্রিয়েলা রামিরেজ-পেরেজ বলেন, এর প্রভাবে অঙ্গরাজ্যটিতে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শীতল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ওকলাহোমা শিরোনামে না থাকলেও এটি অভিবাসন প্রয়োগের একটি হটস্পট; এর ফলে অনেক ভয় তৈরি হচ্ছে, মানুষ মহাসড়কে ওঠা এড়াতে ও যতটা সম্ভব কম গাড়ি চালাতে দৈনন্দিন রুটিন বদলে ফেলছে।
এই গ্রীষ্মের শুরুতে বিচার বিভাগ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে কর্মী ও নতুন সরঞ্জামে খরচ করা যাবে। ফ্লোরিডা ইতিমধ্যে অংশগ্রহণের বিনিময়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে শত শত মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছে। রোজ বলেন, অর্থের প্রতিশ্রুতিই ২৮৭(জি) অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে একটি চালিকাশক্তি বলে মনে হচ্ছে এবং তাঁর ধারণা, ভবিষ্যতে আরও অংশীদারত্ব হবে।




