ম্যাকলেমোর বিতর্কে এড শিয়েরানকে কড়া সমালোচনা জ্যাক অ্যান্টনফের, ডাবলিনে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফর শুরু ম্যাকলেমোরের

র্যাপার ম্যাকলেমোরকে নিজের সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এড শিয়েরানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন গ্র্যামি জয়ী প্রযোজক জ্যাক অ্যান্টনফ। অন্যদিকে, ম্যাকলেমোর ডাবলিনে নিজের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফর শুরু করে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে, যখন ম্যাকলেমোর এড শিয়েরানের সফরে উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলেন। এরপর তাঁকে শিয়েরানের লুপ সফর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
টেইলর সুইফটের বড় হিটগুলোর পেছনের প্রযোজক এবং ব্লিচার্স ব্যান্ডের প্রধান গায়ক অ্যান্টনফ দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শিয়েরান ধনকুবেরদের চাপের সামনে দাঁড়ানোর ‘বিশাল’ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তাঁর ভাষায়, কোনো প্রোমোটার তাঁকে কী বলতে পারবেন তা ঠিক করে দেবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না; প্রয়োজনে তিনি বিনামূল্যে বাইরে গান গাইতেন।
অ্যান্টনফ বলেন, শিয়েরানের উচিত ছিল পুরো সফর বাতিল করে প্রতিটি ভেন্যুর বাইরে বিনামূল্যে গান গাওয়া, তহবিল সংগ্রহ করা—কোনো ধনকুবেরের কথায় মাথা নত না করা। তিনি বলেন, ধনকুবেররা সব সময় আমাদের কী করতে হবে তা বলে দিচ্ছে, তাই দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা দরকার।
খবর অনুযায়ী, নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্র্যাফটসহ কয়েকজন এনএফএল দলের মালিক হুমকি দিয়েছিলেন, ম্যাকলেমোর থাকলে শিয়েরানের স্টেডিয়াম পরিবেশনা আটকে দেওয়া হবে। ম্যাকলেমোর দাবি করেছেন, শিয়েরান তাঁকে বলেছিলেন ক্র্যাফট অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের সংগঠিত করে র্যাপারের পরিবেশনার বিরোধিতা করেছিলেন।
শিয়েরান পরে ফিলাডেলফিয়ায় নিজের সফরের এক অনুষ্ঠানে এই বিতর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলে এবং ৭ অক্টোবর নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে যা ঘটেছিল তা ভয়াবহ এবং শতাব্দীর পর শতাব্দীর ইহুদি যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা বিপর্যয়কর, অন্যায় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শিয়েরান আরও বলেন, ম্যাকলেমোরের বিদায় শেষ পর্যন্ত কনসার্ট প্রোমোটার ও ভেন্যুগুলোর সিদ্ধান্ত ছিল, তাঁর নিজের নয়। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাতে তিনি ‘আতঙ্কিত’ এবং উভয় পক্ষের দুর্ভোগকে ‘মানবিক ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করেন।
ম্যাকলেমোরের পক্ষে দাঁড়িয়ে শিয়েরানের সফর থেকে সরে দাঁড়ান আরও কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পী, যাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিনিয়াস, অ্যারন রো ও লুকাস গ্রাহাম। অ্যান্টনফ ম্যাকলেমোরের মুখ খোলার প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলা কোনো অদ্ভুত বা বিতর্কিত বিষয় নয়, এটি গভীরভাবে মানবিক একটি কথা। ইহুদি শিল্পী অ্যান্টনফ বলেন, এখন তিনি এই কথা বলতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহস পাচ্ছেন।
অ্যান্টনফের মন্তব্যের সমালোচনাও হয়েছে। চলচ্চিত্র সমালোচক ও হলিউড ইন টোটোর প্রতিষ্ঠাতা ক্রিশ্চিয়ান টোটো বলেন, অ্যান্টনফ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বা নিজের ব্যবসা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না। তাঁর প্রশ্ন, শিয়েরান সফর বাতিল করলে কতজন কর্মী চাকরি হারাতেন এবং বিকল্প সফরে তাঁদের বেতন কীভাবে দেওয়া হতো। টোটো বলেন, অ্যান্টনফ শিল্পের ভেতরে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টায় ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে সহজ আক্রমণ করছেন।
এদিকে ম্যাকলেমোর ডাবলিনে তাঁর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এই মঞ্চে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। আমাদের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমরা সম্মিলিত মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ছয় সপ্তাহ আগে মাত্র দুটি শব্দই যথেষ্ট ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এই দুটি শব্দ কিছু মানুষের কাছে এতটাই ভীতিকর যে, সেগুলোর আসল অর্থের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে সেগুলোকে চুপ করিয়ে দেওয়াই সহজ মনে হয়। কোনোভাবে এই শব্দগুলো সেই দুর্ভোগের চেয়েও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে, যে দুর্ভোগের কারণে এই শব্দগুলো প্রয়োজনীয় হয়েছিল।’
ম্যাকলেমোরের এই বক্তব্য অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন, তাঁকে ‘অসাধারণ ও সাহসী’ বলেছেন। আবার কেউ তাঁকে ‘অভিনয়সর্বস্ব ও বিরক্ত’ এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের একজন বলেন, ম্যাকলেমোরের উচিত নিজের দেশের সমস্যা, যেমন লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কিড রোর মানুষের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
খবর অনুযায়ী, ম্যাকলেমোরের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফর এরপর প্যারিস ও লন্ডনে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের তারিখ ও স্থান পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।




