নাটোরের গুরুদাসপুরে জানাজার পর প্রবাসীর শপিং মলে হামলা-লুটপাট, মালিকের দাবি প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে এক প্রবাসীর মালিকানাধীন রাশ মেগা শপিং মলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে, নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার পরপরই এই হামলা হয়। শপিং মলটির মালিক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী রাসেল হোসাইন; তাঁর দাবি, এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকায় জানাজা শেষে মঙ্গলবার রাতে শাকিলের মরদেহ গুরুদাসপুরে আনা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাইকিং করে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। একপর্যায়ে তাঁরা রাশ মেগা শপিং মলে হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা শপিং মলের শাটার ভেঙে তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে লুটপাট করেন। পরে মলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজনকে লুট করা মালামাল মাথায় করে এবং রিকশা-ভ্যানে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
শপিং মলের মালিক রাসেল হোসাইন অভিযোগ করেন, একটি মহল আগে থেকেই তাঁর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার চেষ্টা করছিল। শাকিল হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকজন জড়ো করে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামানের সঙ্গে শপিং মলটির মালিক রাসেল হোসাইনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা আছে। এ ঘটনার জেরে শপিং মলটিতে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের। তবে হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তসাপেক্ষ বলে জানানো হয়েছে।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাঁকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ তাঁকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম বলেছেন, কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেছেন, কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে একজন প্রবাসীর ক্ষতিসাধন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে।




