কলাবাগানে ও লেভেল ছাত্রীর মৃত্যু মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ, পরের তারিখ ২৫ নভেম্বর

ঢাকার কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ও লেভেল ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক খালেদ সাইফুল্লাহ এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটেছিল সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি আগে।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়াক হোসেন জনি জানিয়েছেন, গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন, আজ তা শেষ হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৫ নভেম্বর।
ইশতিয়াক হোসেন জনি জানান, অভিযোগপত্রের ৫৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
আসামি দিহানের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন ও ফারুক আহাম্মদ তদন্ত কর্মকর্তা খালেদ সাইফুল্লাহকে জেরা শেষ করেন। দিহান কারাগারে রয়েছেন; শুনানিকালে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি দুপুরে ওই কিশোরীকে তাঁর ছেলে বন্ধু অসুস্থ অবস্থায় কলাবাগানের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয় এবং লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সেদিন পুলিশ জানিয়েছিল, ‘গ্রুপ স্টাডি’র কথা বলে ওই কিশোরী তাঁর বন্ধুর বাসায় গিয়েছিল এবং ওই সময় বাসায় আর কেউ ছিল না। ওই বাসা থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানকে আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরীর মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন এবং এর এক ঘণ্টা পর বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বের হন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ছাত্রী মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার কাগজপত্র আনার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে দিহান ফোন করে কিশোরীর মাকে জানান, মেয়েটি তাঁদের বাসায় গিয়েছিল এবং হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাঁকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে মা হাসপাতালে পৌঁছান।
মামলায় বলা হয়, পরদিন ময়নাতদন্তে কিশোরীর জননাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আলামত পান চিকিৎসক; এই রক্তক্ষরণই তাঁর মৃত্যুর কারণ। পরে দিহান ঘটনার দায় ‘স্বীকার’ করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
একই বছরের ৮ নভেম্বর দিহানকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা খালেদ সাইফুল্লাহ। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই ট্রাইব্যুনাল।




