ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে দুই ফেডারেল তদন্ত: নাগরিকত্ব বাতিল আলাদা দেওয়ানি প্রক্রিয়া, বললেন সাবেক বিচারক হ্যানসেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে তিনি ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি নাগরিকত্ব বাতিলের মুখেও পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এক ফেডারেল অভিবাসন বিচারক। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট এই কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে দুইটি ফেডারেল তদন্ত চলছে।
তদন্ত দুইটির প্রথমটি কথিত অভিবাসন জালিয়াতি নিয়ে এবং দ্বিতীয়টি তাঁর আর্থিক বিবরণী নিয়ে, যেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২৩ বছরের আইনজীবী নাথান হ্যানসেন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, কোনো নাগরিকত্বপ্রাপ্ত নাগরিক কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের কারণ হয় না। এমন ক্ষেত্রে আদালত থেকে আসা অন্য স্বাভাবিক শাস্তিই তাঁকে ভোগ করতে হয়।
হ্যানসেনকে এ বছরের শুরুতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি অভিবাসন বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি চার মাস ওই দায়িত্বে ছিলেন।
হ্যানসেন বলেন, নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া যেকোনো ফৌজদারি মামলা থেকে আলাদা একটি প্রক্রিয়া। এটি একটি দেওয়ানি প্রক্রিয়া, যা বিচার বিভাগ দায়ের করে, সম্ভবত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষে, কারণ ওই বিভাগই এসব বিষয়ের বেশির ভাগ সামলায়।
তাঁর ভাষ্যে, ফৌজদারি দণ্ডের সঙ্গে কারও নাগরিকত্বের কোনো সংযোগ থাকলে বিচার বিভাগের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে বিষয়টি বিচার বিভাগ পরিচালনাকারীদের বিবেচনাধীন সিদ্ধান্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমর বা তাঁর প্রয়াত বাবা কীভাবে তাঁর নাগরিকত্বের কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন, তা নিয়ে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে তিনি তদন্তের মুখে রয়েছেন। তদন্ত সম্পর্কে অবগত সূত্রের ভাষ্যে তাঁর ‘আসল নাম’ ইলহান নূর সাইদ এলমি।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) ১২ অক্টোবর ভোরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে তদন্তকারীরা তাঁর ফোন, পাসপোর্ট ও কম্পিউটার জব্দ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফক্স নিউজ পরে নিশ্চিত করে, কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর ডিএনএ রয়েছে।
তদন্তে আইনের সময়সীমা বাধা হতে পারে কি না, সে প্রশ্নে হ্যানসেন বলেন, তাঁর মতে জালিয়াতি সাধারণত যেকোনো সময়সীমা থামিয়ে দেয়। কিছু প্রকাশ না করা হলে বা লুকানো হলে, অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে সময়সীমা প্রয়োগ করা ন্যায্য হয় না বলেই তাঁর মত; এটি আইনের একটি সাধারণ নীতি।
অভিবাসন জালিয়াতির ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্নে হ্যানসেন দেশজুড়ে ও মিনেসোটায় বিচারাধীন অভিবাসন ও প্রত্যাবাসন মামলার বিপুল সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, শুধু মিনেসোটাতেই ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার প্রত্যাবাসন মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেগুলোর শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।
হ্যানসেন বলেন, ভুয়া আশ্রয় দাবিও এই জট বাড়াচ্ছে। আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষিত ভিত্তির মধ্যে রয়েছে জাতি, ধর্ম, জাতিসত্তা বা রাজনৈতিক মতামতের কারণে নিপীড়ন। বিচারক থাকাকালে তিনি এমন অনেক দাবি দেখেছেন, যেগুলো ‘মোটেই মিলত না’ বা আবেদনকারীর দেওয়া নথি ‘স্পষ্টতই ভুয়া’ ছিল।



