ঘুমে শ্বাস বন্ধের সমস্যায় পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধে বড় উন্নতির ফল দুটি ট্রায়ালে

একটি পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা, অর্থাৎ অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসের বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বলে দুটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে উঠে এসেছে। গবেষণাটি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে।
ওষুধটির নাম রেটাট্রুটাইড, এটি তৈরি করেছে এলি লিলি। ওষুধটি এখন তৃতীয় ধাপের ট্রায়াম্ফ ট্রায়ালে স্থূলতা ও সংশ্লিষ্ট বিপাকীয় সমস্যার সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওষুধটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি।
ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ৫ কোটির বেশি আমেরিকান আক্রান্ত এবং প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যা শনাক্তই হয় না।
দুটি তৃতীয় ধাপের র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে অংশ নেন ৬৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁদের মাঝারি থেকে গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়া ছিল এবং শরীরের ভর সূচক (বিএমআই) ছিল অন্তত ২৭। তাঁদের সপ্তাহে একবার ৪, ৯ বা ১২ মিলিগ্রাম রেটাট্রুটাইড ইনজেকশন অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয় এবং ৮০ সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ট্রায়াল দুটিতে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ছাড়া ২৪৩ জন এবং এই ডায়াবেটিসসহ ৪৪৮ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের অ্যাপনিয়া-হাইপোপনিয়া সূচক (এএইচআই) মাপেন, যা ঘুমের প্রতি ঘণ্টায় কতবার শ্বাসে বাধা পড়ে, তা গণনা করে। ফলাফলে দেখা গেছে, রেটাট্রুটাইড পাওয়া অংশগ্রহণকারীরা শরীরের ওজনের ১২ শতাংশ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়েছেন এবং প্লাসিবো পাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় তাঁদের শ্বাসের বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৮ শতাংশের ক্ষেত্রে স্লিপ অ্যাপনিয়ার উপসর্গে ৫০ শতাংশের বেশি উন্নতি হয়েছে, তাঁদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকুক বা না থাকুক।
ঘুমের সময় শ্বাসের বাধায় রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়ার তীব্রতা ও সময়কাল, অর্থাৎ হাইপোক্সিক বার্ডেন, ডায়াবেটিস ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস থাকা অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ কমেছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
গবেষণার সহলেখক ও মিনেসোটার রচেস্টারে মেয়ো ক্লিনিকের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. ভিরেন্দ সোমার্স বলেছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া প্রায়ই শনাক্ত হয় না এবং চিকিৎসাও হয় না। তিনি বলেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীদের চিকিৎসায় এটি খুবই আকর্ষণীয় সময়।
সোমার্স বলেন, স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের বেশি ঝুঁকি জড়িত। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ, এলডিএল কোলেস্টেরল, শরীরের প্রদাহ ও গলার পরিধিসহ হৃদরোগের কয়েকটি ঝুঁকির মাপক কমেছে।
ডায়াবেটিস-সংক্রান্ত মাপকেও উন্নতির কথা জানিয়েছেন সোমার্স। ডায়াবেটিস ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের ইনসুলিনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ডায়াবেটিস থেকে প্রিডায়াবেটিস পর্যায়ে গেছেন এবং আরও ৪০ শতাংশ আর ডায়াবেটিসের মানদণ্ডে পড়েননি বলে গবেষক জানিয়েছেন।
সোমার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস ছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ এবং ডায়াবেটিসসহ প্রায় ১৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা পুরোপুরি সেরে গেছে।
গবেষণায় সিপ্যাপ যন্ত্র ব্যবহার করা ও না করা—দুই ধরনের অংশগ্রহণকারীই ছিলেন। সোমার্স বলেন, গবেষণা চলাকালে সিপ্যাপের ব্যবহার সাধারণভাবে কমেছে।
এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন ইউটাহর র্যান্ডের জ্যেষ্ঠ আচরণবিজ্ঞানী ডা. ওয়েন্ডি ট্রক্সেল বলেন, সিপ্যাপই স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রথম সারির চিকিৎসা। বেশি মানুষ পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ফলাফলের মানে এই নয় যে রোগীদের সিপ্যাপ বা অন্য নির্ধারিত চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় রেটাট্রুটাইডের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা জানতে আরও গবেষণা দরকার বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এফডিএ সতর্ক করেছে, অনুমোদনহীন রেটাট্রুটাইড ওজন কমানোর জন্য অনলাইনে অবৈধভাবে বাজারজাত ও বিক্রি করা হচ্ছে।




