আলাস্কার কাছে চীনের চার গবেষণা জাহাজ, এক জাহাজ বিকল হয়ে অর্ধেকে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বরফভাঙা সক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড কাটার হিলির অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ গ্রীষ্মে আর্কটিক অঞ্চলে দেশটির বরফভাঙা সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে গেছে। কোস্ট গার্ডের আর্কটিক ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল বলেছেন, বরফে চলাচলের জন্য নির্ধারিত দুটি আইসব্রেকারের মধ্যে হিলি বিকল হওয়ায় তাঁর হাতে মাত্র একটি জাহাজ রয়েছে।
একই সময়ে ওই অঞ্চলে চীনের চারটি গবেষণা জাহাজ তৎপর ছিল। লিটল বলেন, ‘হিলির অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটি বরফে কাজ করার আমার সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে।’
লিটলের ভাষায়, সাম্প্রতিক প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল দিয়ে ১১টি নতুন আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার তৈরি হবে এবং প্রথমটি ২০২৮ সালের শুরুতেই ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আইসব্রেকারগুলো যত দ্রুত পাওয়া যায়, ততই ভালো।’
সমুদ্রের বরফ কমে যাওয়ায় আলাস্কার আশপাশে নৌচলাচলের উপযোগী পানির এলাকা বাড়ছে। লিটল বলেন, নতুন এই এলাকা সহজগম্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামরিক অগ্রগতির জন্য মানব তৎপরতা বাড়ছে এবং তাতে কোস্ট গার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বের প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে।
চীনের গবেষণা তৎপরতা বেড়েছে বলেও জানান লিটল। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, আগে মাঝে মাঝে একটি জাহাজ এলেও গত বছর পাঁচটি চীনা গবেষণা জাহাজ আর্কটিকে ছিল, আর এ বছর ছিল চারটি। তিনি বলেন, আর্কটিকে কাজ করা যেকোনো গবেষণা জাহাজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুষ্প্রাপ্য সম্পদ আহরণের জন্য অর্থনৈতিক গবেষণাও করতে পারে এবং সেই গবেষণা সমুদ্রতল চেনা ও পানির নিচের সম্পদ চলাচলে সামরিক কাজেও সহায়ক হতে পারে।
কোস্ট গার্ড কাটার মুনরো সম্প্রতি ১১২ দিনের আর্কটিক টহল শেষে ফিরেছে, যার মধ্যে চীনা গবেষণা জাহাজগুলোর ওপর নজরদারিও ছিল। লিটল বলেন, পৃষ্ঠে এমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি, যা প্রচলিত আইন বা আন্তর্জাতিক নিয়মের বাইরে।
আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আর্কটিক সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্সের পরিচালক ট্রয় বুফার্ড বলেন, চীনের গবেষণা তৎপরতা বেইজিংকে এমন একটি পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে তাদের উপস্থিতি কম ছিল। তাঁর মতে, জাহাজগুলো বৈধ বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করলেও সেই তথ্যের অন্য প্রয়োগ থাকতে পারে, বিশেষ করে সাবমেরিন যুদ্ধের পরিকল্পনায়। তিনি আরও বলেন, কোডিয়াক, অ্যাঙ্কোরেজ বা সিয়াটল থেকে বেরিং সাগরে একটি জাহাজ পৌঁছাতে কয়েক দিন লেগে যায়।
রাশিয়ার অনেক বড় আইসব্রেকার বহর দেশটিকে সুবিধা দিচ্ছে বলে স্বীকার করেন লিটল। তিনি বলেন, রাশিয়ার বহর বাণিজ্যিক ও সামরিক কাজে তাদের প্রবেশাধিকার, সমুদ্রপথ ও সরবরাহ পথ ধরে রাখতে সাহায্য করে। লিটল আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের যৌথ সামরিক পৃষ্ঠ জোট, দুই দেশের কোস্ট গার্ডের সহযোগিতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করা চীনা গবেষণা জাহাজগুলোর ওপর কোস্ট গার্ড নজর রাখছে, কারণ যেকোনো এক পক্ষ একা থাকলেও মনোযোগের দাবি রাখে, আর একসঙ্গে কাজ করলে তারা স্বদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা সামরিক ঝুঁকি তৈরি করে কি না, তা ঘনিষ্ঠভাবে দেখা হয়।




