মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার অর্থায়ন ব্যবস্থায় হ্যাকারদের হামলার চেষ্টা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) ওয়েবসাইটে হ্যাকাররা হামলার চেষ্টা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে প্রচারের অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের কাজ ব্যাহত হয়েছে।
একটি প্রচার আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো এফইসির ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আমাদের একটি দুর্বৃত্ত পক্ষ এফইসির ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। ফলে আমাদের ওয়েবমুখী সেবাগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।’ রয়টার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে এই ইমেইলের কথা জানা গেছে।
এই বন্ধের কারণে সংস্থাগুলো এফইসির ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টার ব্যয়ের প্রতিবেদন দাখিল করতে পারছে না। এই প্রতিবেদনগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট আসনে রাজনৈতিক দলগুলো ও প্রার্থীরা কীভাবে অর্থ ব্যয় করছেন, তা অনুসরণ করা হয়।
এফইসির ওয়েবসাইটের একটি অবস্থা বার্তায় দেখা গেছে, সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের পর ব্যবস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়টি গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ২টা ১৫ মিনিট।
মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টা ১৭ মিনিটে দেওয়া এক হালনাগাদ বার্তায় বলা হয়, ‘সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং সমাধানের কাজ চলছে।’
এফবিআই এবং সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা—দুই পক্ষই প্রশ্নের জবাবের জন্য এফইসির কাছে যেতে বলেছে।
এফইসি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ভূমিকা পালন করে না। তবে এই হামলার খবর এমন সময়ে এলো, যখন তথাকথিত সুপার প্যাক ও অন্ধকার অর্থের গোষ্ঠীগুলো ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে।
ডেমোক্র্যাটিক এফইসি কমিশনার ডারা লিন্ডেনবাউম এক্সে লিখেছেন, ‘এর সঙ্গে ভোটার নথি বা ভোটার নিবন্ধনের কোনো সম্পর্ক নেই। সেগুলো রাজ্যগুলো সংরক্ষণ করে। এফইসি শুধু ফেডারেল প্রচারের অর্থায়নসংক্রান্ত নথি নিয়ে কাজ করে।’
লিন্ডেনবাউম আরও লিখেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থাগুলো ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি।’
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষক অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিজ্ঞাপন ও ভবিষ্যৎ বুকিংয়ে প্রায় ১ হাজার ১২১ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।
এই অঙ্ক ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগের রেকর্ড ১ হাজার ১২০ কোটি ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ওই ব্যয়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছিল ৩২০ কোটি ডলার।
ব্যয়ের বড় অংশ করছে সুপার প্যাকগুলো। এগুলো স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কমিটি, যারা ধনী ব্যক্তি ও করপোরেশনের কাছ থেকে সীমাহীন পরিমাণ অর্থ নিতে পারে এবং কম বিধিনিষেধের মধ্যে তা প্রচারে ব্যয় করতে পারে।
নিরপেক্ষ প্রচার পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের গবেষণা পরিচালক ব্রেন্ডান গ্লাভিনের তথ্য অনুযায়ী, সুপার প্যাক ও অন্ধকার অর্থের গোষ্ঠীগুলো গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ডলার করে ব্যয় করেছে।
গ্লাভিন বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়। নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা জানার এটিই একমাত্র উপায় আমাদের কাছে।’




