আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করল ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রবেশ, রাত সাড়ে ১১টায় ব্যক্তিগত বিমানে ইকুয়েডরের পথে

আর্জেন্টিনা সরকার নিশ্চিত করেছে, ব্রাজিলের অতি-ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো সীমান্ত পেরিয়ে সে দেশে প্রবেশ করেছিলেন। বুধবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যাওয়ার পর তিনি ব্রাজিল ছেড়েছেন।
আর্জেন্টিনা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় তাঁরা ইকুয়েডরগামী একটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে রওনা হন।
আর্জেন্টিনার জাতীয় অভিবাসন অধিদপ্তর এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেছে, তাঁরা বৈধ ভ্রমণ নথিপত্রসহ দেশটিতে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের প্রবেশে কোনো আইনি বাধা ছিল না। সংস্থাটি আরও বলেছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাঁদের যাত্রা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
অভিবাসন অধিদপ্তর জানায়, ফ্লাইটটি পরিচালনা করেছে ‘বাইরেস ফ্লাই এস.এ.’ নামের একটি কোম্পানি। বিমানটির গন্তব্য ছিল ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল, যা রাজধানী কিটো থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
বলসোনারো পরিবার আর্জেন্টিনার মিসিওনেস প্রদেশের তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছে বলেও অধিদপ্তরের তথ্যে জানানো হয়েছে।
এর আগে সংবাদ ওয়েবসাইট মেত্রোপোলেস পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন। তাঁর সহযোগীরা মেত্রোপোলেসকে জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার বিকেলে ফ্লোরিডায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও সহযোগীদের দাবি।
প্রেসিডেন্ট লুলা একটি অনুষ্ঠানে ফ্লাভিও বলসোনারোর এই দেশ ছাড়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বলসোনারো পরিবারের কাছে ব্রাজিল দ্বিতীয় মাতৃভূমি, আর তাদের প্রথম মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহন করা।
লুলা আরও প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনে হেরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একজন নাগরিকের বিবেক কী বলে। তাঁর ভাষায়, যার কোনো অপরাধ নেই, সে কাউকে ভয় পায় না; যে নাগরিক গোপনে দেশ ছাড়ে, তার নিশ্চয়ই কোনো অপরাধ আছে। ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়ার এই ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেছেন।




