নাটোরের গুরুদাসপুরে শাকিল হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার এমপিপুত্র মিন্টুকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই তাঁর দায় নির্ধারণ করবে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওসি আব্দুল হান্নানকে জনস্বার্থে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজন দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। তাঁকে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসা থেকে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শাকিল হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ ও ঘটনার নেপথ্যের তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে মামলার সূত্রে জানানো হয়েছে।




