সিআরআই ট্রাস্টের আয়কর নথি জব্দের আদেশ চেয়ে বিশেষ জজ আদালতে দুদকের আবেদন

সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, নসরুল হামিদ (বিপু) ও আ হ ম মোস্তফা কামালসহ আটজনের পরিচালিত সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ট্রাস্টের আয়কর নথি জব্দের আদেশ চেয়ে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশেষ জজ আদালতে এই আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মাহবুব আলী সাগর। বিকেলে কমিশনের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, সিআরআইয়ের নামে ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান খুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু), আ হ ম মোস্তফা কামালসহ অন্যরা কোটি কোটি টাকা অনুদান তুলে সেই টাকার কর না দিয়ে মিলেমিশে আত্মসাৎ ও পাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে সিআরআইয়ের ট্রাস্টি হিসেবে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, নসরুল হামিদ (বিপু), শাকিল বিন শামস, রওশন আরা আকতার, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও আ হ ম মোস্তফা কামালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দায়ের করা মামলার তদন্তে সিআরআইয়ের নামে সার্কেল-১১৬, কর অঞ্চল-৬, ঢাকায় শুরুর সময় থেকে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করার আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হয় বলে দুদক জানায়।
আদালতে দেওয়া আবেদনে মামলার বাদী জানান, ট্রাস্টিরা অসৎ উদ্দেশ্যে জনকল্যাণের নামে নামসর্বস্ব সিআরআই গঠন করেন। প্রতিষ্ঠানটি জনকল্যাণমূলক কাজ না করে এবং সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্ত্বেও অবৈধ কর সুবিধা দেওয়ার জন্য এসআরও জারি করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানিকে চাপ প্রয়োগ করে অনুদান নিয়ে সিআরআইয়ের হিসাবে ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ২০১৩-২০১৪ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত মোট ১০০ কোটি ৫১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৬ টাকা অবৈধভাবে আয় করা হয় বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদন অনুযায়ী, ওই আয়ের মধ্যে ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫১ হাজার ২২১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬ হাজার ১৭০ টাকা ৮৭ পয়সা জমা এবং ১২৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ৫১ টাকা ৬৮ পয়সা উত্তোলন করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে ২৩টি হিসাবে মোট ৪০১ কোটি ৬ লাখ ১২ হাজার ৮৮০ টাকা ৭১ পয়সা লেনদেন এবং ৩৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৫১ টাকা আয়কর না দিয়ে সরকারের ক্ষতি করার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয় বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।
আবেদনে বাদী আরও জানান, মামলার তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের সার্কেল-১১৬, কর অঞ্চল-৬, ঢাকার আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সে কারণে সিআরআইয়ের আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করার আদেশ দিতে আদালতের কাছে অনুরোধ জানান বাদী।




