গোপালগঞ্জের সদরে ১২ বছরের মুহিন হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের ১২ বছর বয়সী শিশু তালহা মোল্লা ওরফে মুহিন হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা। একই মামলায় মো. শাওন মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. লিয়াকত আলী মোল্লা ওরফে লিকুকে আদালত খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে যাবজ্জীবন পাওয়া শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তৌফিকুল ইসলাম রায়ের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে আদালতের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও তিনি বলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত মুহিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ছেলে। ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মাছ ধরা দেখতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী মানজুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই মামলার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। যারা তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে জানান এবং রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম জুলকদর রহমান জানান, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।




