পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে সমালোচনার মুখে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশে জেলেনস্কি
রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি ফোন করে শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার ৯০ মিনিটের ফোনালাপে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান।
তবে কিছু ইউরোপীয় সরকার এই ফোনালাপকে ভুল বলে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, স্টাব ও স্তোরে ঐক্য ভেঙে সরাসরি রুশ নেতাকে ফোন করে ইউরোপের ঐক্য ক্ষুণ্ন করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পুতিনকে বড় পরিসরে কূটনৈতিকভাবে একঘরে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি দুই নর্ডিক নেতার সাহায্যের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ‘ইতিবাচক’ বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এই দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সত্যিই খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তারা সত্যিই সাহায্য করে।’
জেলেনস্কি বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে দেখা করার পর পুতিন কূটনৈতিক একঘরে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আলাস্কার পর থেকে ইউরোপীয়রাও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে। তারা শুধু নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের মতো প্রকাশ্যে তা করেনি।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে, আবার এমন আলোচনাও হয়েছে যা হওয়ার পরই প্রকাশ পেয়েছে—এ কথা সবাই বোঝে।
তিনি বলেন, ‘এখানে অবশ্য সবকিছু সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে হয়েছে: আগাম আলোচনা, পূর্ণ ব্রিফিং এবং স্বচ্ছ উদ্দেশ্য। ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে দেখাচ্ছে, তারা যোগাযোগের আরেকটি পথ খুলতে চায়, যাতে ইউরোপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে নয়, সরাসরি তথ্য পেতে পারে এবং রাশিয়া কিছু বিষয় সরাসরি শুনতে পারে।’
পুতিনের সঙ্গে ইউরোপের কথা বলা উচিত কি না এবং কীভাবে বলা উচিত, সেই প্রশ্ন ইউক্রেনের মিত্রদের মধ্যে একটি সংবেদনশীল বিষয়।
মঙ্গলবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ফিনল্যান্ড-নরওয়ের যৌথ ফোনালাপ নিয়ে তিনি ‘খুবই সন্দিহান’। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, শান্তি আসতে হবে ‘শক্তি’র মাধ্যমে, রাশিয়াকে ‘তুষ্ট’ করে নয়।
একটি জাতীয় রাজধানীর একজন কর্মকর্তা, অন্য অনেকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ই৩ (জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য) বিন্যাসটি ভালোভাবে কাজ করেছে। প্রতিটি দেশ নিজে থেকে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় কণ্ঠ ভেঙে ফেলা খারাপ হবে বলেও তিনি যোগ করেন।
ইতালি সরকার স্টাব ও স্তোরের পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে বিরক্ত হয়েছে। ইতালীয় কর্মকর্তাদের মতে, এটি দেখিয়েছে শান্তি আলোচনায় এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কে করবে, তা নিয়ে একমত হতে ইউরোপ ব্যর্থ হয়েছে।
রোমের একজন সরকারি কর্মকর্তা সতর্ক করেন, আলাদা জাতীয় উদ্যোগ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া কূটনৈতিক বিন্যাস প্রভাব আরও ক্ষয় করার ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি বলেন, ইউরোপ ‘এভাবে এলোমেলোভাবে এবং প্রতি সপ্তাহে বদলে যাওয়া বিন্যাসে কাজ চালিয়ে যেতে পারে না।’ রোম মহাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় অভিন্ন ইউরোপীয় ম্যান্ডেটসহ প্রতিনিধিদের জরুরি নিয়োগ চায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আলোচনা অপেক্ষা করবে না।’
ব্রাসেলসের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত মৃদু থাকলেও তাতে বিষয়টির সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র পাওলা পিনহো বলেন, ‘আমরা ফোনালাপটির বিষয়টি লক্ষ করেছি, যা সম্পূর্ণভাবে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই আলোচনা বিভিন্ন বিন্যাসে, বিভিন্ন জায়গায় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত। ইইউ যুক্ত রয়েছে।’



