দুর্বল টিকা বিক্রি ও বাড়তি খরচে চাপে জিএসকে, এক দিনে শেয়ারের দাম কমল সাড়ে ৫ শতাংশ

ব্রিটেনের ওষুধ প্রস্তুতকারক জিএসকের শেয়ারের দাম বুধবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। কোম্পানিটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল প্রকাশ করলেও দুর্বল টিকা বিক্রি, পুনর্গঠনের বাড়তি খরচ ও সামগ্রিক পূর্বাভাস নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে শেয়ারের দাম একপর্যায়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। পরে কিছুটা সামলে দিন শেষে পতন দাঁড়ায় সাড়ে ৫ শতাংশে, যা সেদিন লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচকে সবচেয়ে বড় পতন।
জিএসকে ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওষুধ কোম্পানি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি পাউন্ডে। একই সময়ে পুনর্গঠন বাবদ খরচ হয়েছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড, এবং সামনে আরও খরচ আসছে বলে কোম্পানি জানিয়েছে।
বিক্রির চিত্রে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে। স্থির মুদ্রাহারে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট বিক্রি ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৯০ কোটি পাউন্ড হয়েছে, যার পেছনে এইচআইভি, ক্যানসার ও লুপাসের ওষুধের শক্তিশালী বিক্রি ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু টিকার বিক্রি ২ শতাংশ কমে ২৬০ কোটি পাউন্ডে নেমেছে।
টিকার মধ্যে দাদ (শিংগলস) প্রতিরোধী টিকা শিংরিক্সের বিক্রি কমেছে ৫ শতাংশ এবং আরএসভি টিকা আরেক্সভির বিক্রি কমেছে ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে মেনিনজাইটিসের টিকার বিক্রি বেড়েছে ১২ শতাংশ।
বিনিয়োগকারীদের আরেকটি বড় উদ্বেগ কোম্পানির সর্বাধিক বিক্রিত এইচআইভি ওষুধ ডলুটেগ্রাভিরের পেটেন্ট নিয়ে। এই দশকের শেষ দিকে ওষুধটির পেটেন্ট সুরক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন অন্য কোম্পানিগুলো এর সস্তা জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করতে পারবে।
জানুয়ারিতে এমা ওয়াল্মসলির কাছ থেকে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া লুক মিয়েলস এরই মধ্যে কয়েকটি অধিগ্রহণ ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে ৭৯০ কোটি পাউন্ডে একটি মার্কিন ক্যানসার-বিশেষজ্ঞ কোম্পানি কেনাও রয়েছে। ওষুধ উন্নয়নের গতি বাড়াতে জুলাইয়ে তিনি বড় ব্যয়-সাশ্রয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।
জিএসকে ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক মোট আয় ৪ হাজার কোটি পাউন্ডের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে ক্যানসার ব্যবসা নতুন করে গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মিয়েলস বলেছেন, বছরে ১৯০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে। এই পুনর্গঠনে মোট খরচ হবে ২৪০ কোটি পাউন্ড, যার বেশির ভাগই আসবে এই বছর ও আগামী বছর।
যুক্তরাজ্যে এই পুনর্গঠনের প্রভাব তুলনামূলক সীমিত থাকবে বলে মিয়েলস জানিয়েছেন। মধ্য লন্ডনে কোম্পানির সদর দপ্তরে সহায়ক পদে কিছু চাকরি যাবে। তাঁর ভাষায়, সদর দপ্তর খুব বড় হওয়া উচিত নয়; তিনি চান কর্মীরা গবেষণাগারে কাজ করুক।
বেলজিয়ামে টিকা ব্যবসা পুনর্গঠন করছে জিএসকে। সেখানে ডিজিটাল সরঞ্জাম ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় প্রায় ১ হাজার ২০০ চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যদিও দেশটিতেই কোম্পানির টিকার বেশির ভাগ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। গত বছরের শেষে বিশ্বজুড়ে জিএসকের কর্মী ছিল প্রায় ৬৭ হাজার।
কোম্পানি তার বার্ষিক পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ বিক্রির চেয়ে দ্রুত বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ ২২টি নতুন ওষুধের শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ১৮টি ইতিমধ্যে চলমান; মনোযোগ বিশেষায়িত ওষুধ ও টিকায়।
শিংরিক্স নিয়ে মিয়েলস বলেছেন, আগামী বছর এই টিকার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য। টিকাটি ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রংশ) ঝুঁকি কমায় কি না এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো বড় হৃদ্যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনায় এর প্রভাব নিয়ে দুটি বড় গবেষণা চলছে; প্রথমটির তথ্য ২০২৯ সালে ও দ্বিতীয়টির ২০২৭ সালে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।



