মাদারীপুর সদর হাসপাতালে শ্রমিকের লাশ ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ, আরএমওর বিচার দাবিতে স্বজনদের বিক্ষোভ
মাদারীপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে এক শ্রমিকের লাশ ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের বিচারের দাবিতে নিহতের স্বজনরা এই বিক্ষোভ করেন।
নিহত শ্রমিকের নাম মো. সাইম। তিনি মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে।
পুলিশ, নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমিরাবাদ এলাকায় সাইফুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করার সময় ভবনের গা ঘেঁষে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ মর্গে রাখা হয়।
স্বজনরা জানান, লাশের ময়নাতদন্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারা হাসপাতালে এসে লাশ নিতে যান। তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে লাশ শনাক্তকরণের কাগজ দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে এবং এ নিয়ে বিপত্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনায় হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে স্বজনরা আরএমও ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালে এসে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর লাশ স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, লাশ হাসপাতালে আটকে রাখার খবর শুনে তিনি সেখানে এসেছেন, জেলা প্রশাসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খুব দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


