ব্রিটেনের ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৬ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করল ওবিআর, মূল্যস্ফীতি ছুঁতে পারে ৪ শতাংশ

ব্রিটেনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বড় আকারে কমিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকারের স্বাধীন পূর্বাভাস সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি (ওবিআর)। চ্যান্সেলর জন হিলি তাঁর প্রথম বাজেট ঘোষণার দিন প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান ও সরকারি অর্থায়নের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে।
ওবিআর চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির হিসাব ১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করলেও আগামী বছরের জন্য পূর্বাভাস ১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে।
সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছর গ্রাহকদের মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হতে হবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, যা মার্চে দেওয়া ২ শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওবিআর।
হিলি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আর্থিক বাজারের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোষাগারকে ঋণের সুদে ১ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
চ্যান্সেলর তাঁর প্রধান আর্থিক নিয়মের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ডের সুরক্ষা-ব্যবধান রেখেছেন, যা বসন্তে তাঁর পূর্বসূরি র্যাচেল রিভসের রেখে যাওয়া ২ হাজার ৩৬০ কোটি পাউন্ডের তুলনায় কম। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে দৈনন্দিন ব্যয় রাজস্ব আয় দিয়ে মেটাতে হবে।
ওবিআর বলেছে, মধ্যমেয়াদে ঋণ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসবে, তবে আগের পরিকল্পনার তুলনায় কাছাকাছি সময়ে এর গতি হবে ধীর।
জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলাকে প্রথম বাজেটের কেন্দ্রে রেখেছেন হিলি। এর মধ্যে রয়েছে ২ কোটি পরিবারের প্রতিটিকে ১০০ পাউন্ড করে এককালীন অর্থ দেওয়া, যার জন্য কোষাগারের ব্যয় হবে ২৬০ কোটি পাউন্ড, এবং গ্যাস বিলের স্থায়ী চার্জ বাতিলের পরিকল্পনা। জ্বালানি সহায়তার প্যাকেজের অর্থ জোগাতে ব্যাংকগুলোর ওপর কর সাময়িকভাবে বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।
তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও ওবিআর সতর্ক করেছে, পরিবারগুলো টানা চাপের মধ্যে থাকবে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় মাথাপিছু ব্যয়যোগ্য আয় স্বল্পমেয়াদে কমবে, এরপর বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের আগে সামান্য বাড়বে। সংস্থাটি বলেছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুতে আয়ের স্তর মহামারির আগের স্তরের তুলনায় মাত্র প্রায় ২ শতাংশ বেশি থাকবে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্রিটেন জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হার রেকর্ড করেছিল। এআই-সংক্রান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শক্তিশালী সম্প্রসারণ অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
হিলি তাঁর বাজেটে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে প্রযুক্তির শক্তি কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী এআই প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত হওয়ার মধ্যে সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখার কথা বলেছেন।


