বিকাশ অ্যাপেই মিলবে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় ও ঋণসেবা, ডিপিএস খোলা যাবে ৫০০ টাকা থেকে
বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা। সামনের দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকটির ঋণ, পে-লেটারসহ অন্যান্য সেবাও একই অ্যাপে পাওয়া যাবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং সেবা নেওয়া আরও সহজ করতে ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশ এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই যৌথ যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যৌথ সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান। আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘প্রযুক্তি এখন আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে, এরপরও অনেকের জন্য প্রয়োজনের সময় সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমাদের আজকের এই যৌথ উদ্যোগ।’
তিনি আরও বলেন, ট্রাস্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে বিকাশ দেশের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিকাশের অগ্রযাত্রা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং তাদের সাথে ট্রাস্ট ব্যাংকের অংশীদারিত্ব এই অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করবে বলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা আশা করছে।’ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগে দুটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কাজ করাকে তিনি আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ঋণব্যবস্থা প্রচলিত আছে এবং ‘ন্যানো লোন’ ধারণাটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ধারণা থেকে এসেছে। মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, অতি প্রয়োজনীয় সেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তা দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ‘ট্রাস্ট ব্যাংকের আছে আস্থা, দীর্ঘ ব্যাংকিং এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা; এদিকে বিকাশের আছে দেশব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং মানুষের আস্থা। এই আস্থার উপর ভর করেই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেবা এখন প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে।’ তিনি জানান, এজেন্ট বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রয়োজনের সময় বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণ নিতে পারবেন; পাশাপাশি ডিপিএস, এফডিআর ও পে-লেটার সেবা গ্রাহকের লেনদেন সহজ করবে।
বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের সঠিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ফলে এখন যে কেউ ১০,০০০ টাকার এফডিআরও খুলতে পারছেন।’ তাঁর মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি বিভিন্ন বাধা দূর করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সৃজনশীল, নিয়মসম্মত ও উপযুক্ত আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপ থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস খুলতে পারছেন; ৫০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের ও মেয়াদের ডিপিএস খোলা যাচ্ছে। বিভিন্ন মেয়াদ ও অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) সেবা শীঘ্রই চালু হবে।
বিকাশ এজেন্টদের জন্য চালু হবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণ; এজেন্টরা এজেন্ট অ্যাপ থেকেই জামানতবিহীন এই ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের সুযোগ পাবেন তাৎক্ষণিকভাবে। নির্বাচিত গ্রাহকেরাও বিকাশ অ্যাপ থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন।
পে-লেটার সেবাও চালু হবে বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণসেবার আওতায়, পেমেন্ট ও মোবাইল রিচার্জের জন্য। এই সেবায় গ্রাহক তাঁর ঋণসীমার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা কিনে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সুদ ছাড়া পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন, অথবা সহজ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পাবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও রয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের।
বর্তমানে বিকাশের ৮ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকসহ আরও পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও ঋণের মতো ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস দিয়ে; পর্যায়ক্রমে এতে যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।
প্রতিষ্ঠান দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে উন্নত সেবা পৌঁছে দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করতেই বিকাশ নিজের প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা যুক্ত করছে; ট্রাস্ট ব্যাংকের সেবা যুক্ত হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।


