চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ (পণ্যবাজারের পূর্বাভাস) প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। বুধবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে সমস্যা এবং স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদের উচ্চ চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলতি বছর তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খাদ্যপণ্য ও ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আইহান কোসে বলেন, ‘পণ্যবাজারগুলো একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালে জ্বালানি তেলের দাম কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, রেকর্ড ভাঙা শক্তিশালী এল নিনো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কৃষ্ণসাগরের শস্যের চালানে আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি অথবা ইরান যুদ্ধ থেকে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ‘খাদ্য সংকট’ দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেখানে এই ঝুঁকিগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, সেখানে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট গড়ে ১০৫ ডলার প্রতি ব্যারেল হতে পারে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বেসলাইন পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে।’


