সাংবাদিকদের হয়রানিতে দোষী সাব্যস্ত টমি রবিনসন, হতে পারে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের উগ্র ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন দুই সাংবাদিককে হয়রানি করে তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ভয় সৃষ্টি করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
রবিনসনের আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন। বুধবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে জুরি তাঁকে দুটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করে। জুরি দুই দিন ধরে আলোচনা করেন এবং বিচারক তাঁদের নির্দেশ দেন, সর্বসম্মত রায় না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ও দেওয়া যাবে।
মামলাটি ছিল ডেইলি মেইলের দুই সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ইয়ং ও জ্যাকব দিরনহুবারকে কেন্দ্র করে। আদালতে বলা হয়, রবিনসন এক সাংবাদিকের পরিবারের ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেন এবং বলেন, ২০২৪ সালে সাউথপোর্ট হত্যাকাণ্ডের পর ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে লেখা প্রতিবেদনের তিন প্রতিবেদককেই তিনি ‘ট্যাগ করে ব্যাগে ভরেছেন’।
আদালতে আরও বলা হয়, দিরনহুবার ও তাঁর সঙ্গীকে বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়, আর ইয়ং ও তাঁর পরিবারকে দেওয়া হয় একজন ঘনিষ্ঠ সুরক্ষা কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, রবিনসন ডেইলি মেইলের সম্পাদককেও ফোন করে বলেছিলেন, তিনি সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে ‘বিখ্যাত’ করে দেবেন।
অভিযোগে বলা হয়, হয়রানি চালানো হয় এক্সে তাঁর লাখ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া পোস্ট ও সরাসরি বার্তার মাধ্যমে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি ইয়ংকে ফোন করে বলেন, ‘আমি তোমাকে ধরতে আসছি।’ ওই সময় এক্সে তাঁর অনুসারী ছিল প্রায় আট লাখ, যা ইয়ং তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
মামলার পটভূমি ছিল ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদন, যেখানে পত্রিকাটি তাঁকে সাইপ্রাসের একটি হোটেলে খুঁজে পায়; সাউথপোর্ট ঘটনার পর তিনি সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘সানবেড থেকে বসে জাতিগত দাঙ্গায় উসকানি’।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রবিনসন বলেন, পত্রিকাটি কার্যত তাঁর সাইপ্রাসের হোটেলটি চিহ্নিত করে দেওয়ায় এবং তাঁর সাবেক স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধু সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁরা জানতেন তিনি মারধর করতে আসছেন না।
তৃতীয় ডেইলি মেইল সাংবাদিক জর্জ ওডলিং জবানবন্দিতে বলেন, অনুসারীদের অনুসরণের ভয়ে তাঁকে স্ত্রী ও ছোট সন্তানসহ প্রতিবেশীর বাড়ির ভেতর দিয়ে নিজের বাড়ি ছাড়তে হয়। রায়ের দিন আদালতের ভেতরে রবিনসনের এক সমর্থকের হুমকির পর কয়েকজন সাংবাদিককে নিরাপত্তা প্রহরায় বের করে নিতে হয়।
রায়ের পর ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের বিশেষ অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক ফার্গুসন বলেন, রবিনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং কাজের কারণে কাউকে সহিংসতার ভয়ের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়। ডেইলি মেইলের এক মুখপাত্র তাঁর আচরণকে নিন্দনীয় বলে বর্ণনা করেন।
রবিনসন ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির সাবেক সদস্য এবং ইংলিশ ডিফেন্স লিগের সহপ্রতিষ্ঠাতা। বিচারের আগে তিনি বলেছিলেন, তাঁর আইনি খরচ দিচ্ছেন এক্সের মালিক ধনকুবের ইলন মাস্ক।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর সাজা ঘোষণার শুনানির জন্য তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। বিচারপতি কাভানাহ রায়ের পর বলেন, পূর্ণ বা স্থগিত কারাদণ্ডসহ সব বিকল্পই তিনি বিবেচনা করবেন।




