রক্ষণশীলদের ব্রেক্সিট চুক্তি প্রতিশ্রুতির চেয়েও কঠোর ছিল, মন্ত্রীদের মতপ্রকাশে সতর্ক করলেন বার্নহ্যাম

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে বিকল্পগুলোর পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগে যেন কেউ নিজের মত প্রকাশ না করেন। তাঁর যুক্তি, রক্ষণশীলদের (কনজারভেটিভ) ব্রাসেলসের সঙ্গে করা চুক্তি ২০১৬ সালের গণভোটে প্রতিশ্রুত ব্রেক্সিটের চেয়েও চরম ছিল।
ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ধারাবাহিক ঘোষণার অংশ হিসেবে বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বার্নহ্যাম মন্ত্রীদের বলেন, বর্তমান চুক্তিটি খারাপ। এরপর তিনি ফ্রন্টবেঞ্চারদের কাছে চিঠি লিখে এ বিষয়ে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানান।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কেমি ব্যাডেনকের সঙ্গে বার্নহ্যামের বাক্যবিনিময়ের প্রধান বিষয়ও ছিল ব্রেক্সিট। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের পর রক্ষণশীলদের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় যুক্তরাজ্য ‘পক্ষাঘাতগ্রস্ত’ হয়ে পড়েছিল।
ডাউনিং স্ট্রিটের মন্ত্রিসভা বৈঠকের সারসংক্ষেপে বার্নহ্যামের ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত মন্তব্যকে অর্থমন্ত্রী জন হিলির বাজেট-সংক্রান্ত বক্তব্যের চেয়েও ওপরে রাখা হয়েছে; হিলির বাজেট দেওয়ার কথা ছিল সভার পরপরই।
ডাউনিং স্ট্রিটের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে মন্ত্রিসভার কাছে চিঠি লিখবেন বলে জানিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, গত সরকারের রেখে যাওয়া ব্রেক্সিট চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য খারাপ ছিল এবং তার ফলে গণভোটে প্রতিশ্রুত ব্রেক্সিটের চেয়েও কঠোর ব্রেক্সিট হয়েছে।’
মন্ত্রীদের কাছে লেখা চিঠিতেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। চিঠির শেষে বার্নহ্যাম সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পগুলোর পর্যালোচনার আগে মন্ত্রীদের পৃথকভাবে কোনো নির্দিষ্ট বিকল্পের পক্ষে কথা বলা বা প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ফল নিয়ে মত দেওয়া ঠিক হবে না। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এই পুরো সময়জুড়ে আমাদের বার্তায় ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’
এই চিঠির প্রেক্ষাপটে এমন খবরও এসেছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রীর সংশোধিত চুক্তির ধারণা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে—বিশেষ করে তা ইইউর সঙ্গে মানুষের মুক্ত চলাচল ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, যে সম্ভাবনার কথা বার্নহ্যাম নিজেই তুলেছেন।
বার্নহ্যাম তাঁর চিঠিতে ব্রেক্সিট সংস্কারের দুই ধাপের পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। প্রথম ধাপে প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো লেবার পার্টির ২০২৪ সালের ইশতেহারের সীমার মধ্যে থাকবে—ইইউর কাস্টমস ইউনিয়ন ও একক বাজারের বাইরে থাকা এবং মানুষের মুক্ত চলাচল ফিরিয়ে না আনা। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী একটি ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
এর চেয়ে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন পরবর্তী নির্বাচনের পরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন; এ নিয়ে আলোচনা চান বলেও তিনি বলেছেন।
চিঠিতে বার্নহ্যাম লিখেছেন, ‘আমি আমার এই বিশ্বাসে স্পষ্ট যে রক্ষণশীল সরকারের আলোচনায় ঠিক করা ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটেনের জন্য যথেষ্ট ভালো ছিল না। এর ফলে এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে, ব্যবসার ওপর আরও বেশি লাল ফিতার বোঝা চেপেছে এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। এটি ইইউ গণভোটে প্রতিশ্রুত ব্রেক্সিটের চেয়েও কঠোর ব্রেক্সিট।’




