তেল-গ্যাসের বাইডেন-আমলের বিধি বদলের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে, ৪৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের দাবি ইপিএ প্রধানের

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) বাইডেন-আমলের তেল ও গ্যাস বিধি সংস্কারের একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। টেক্সাসের লাবকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই ঘোষণা দেন ইপিএ প্রশাসক লি জেলডিন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে আমেরিকানদের ৪৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।
জেলডিনের হিসাবে, প্রস্তাবটি আরও আনুমানিক ২১ কোটি ব্যারেল আমেরিকান তেল এবং ১ দশমিক ৪১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের পথ খুলে দেবে।
তিনি বলেন, আমেরিকার অনেক কিছুই তেল ও গ্যাসের ওপর চলে—যানবাহনের জ্বালানি, ঘরের তাপ, খাদ্য উৎপাদনকারী ট্র্যাক্টরের ডিজেল এবং মুদিদোকানে পণ্য পৌঁছে দেওয়া ট্রাক। উৎপাদন খরচ বাড়লে এবং সরবরাহ কমলে প্রায় সবকিছুর জন্যই ভোক্তাকে বেশি মূল্য দিতে হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলডিনের অভিযোগ, ২০২৪ সালে বাইডেন-আমলের ইপিএ সবচেয়ে বড় কোম্পানি থেকে একটি মাত্র কূপের মালিক পরিবার পর্যন্ত সব তেল-গ্যাস উৎপাদকের ওপর একই ধরনের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়। সংস্থাটির নিজের হিসাবেই ওই বিধির খরচ ছিল ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (১৮ বিলিয়ন) এবং তাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়ত; জেলডিনের দাবি, প্রকৃত খরচের হিসাব তার চেয়েও কম ধরা হয়েছিল।
তাঁর দাবি, ওই বিধি বিদ্যমান কূপগুলো বন্ধ করে দিত এবং নতুন কূপ খোলাই হতো না—উৎপাদকেরা বারবার এ কথা বললেও বাইডেন-আমলের ইপিএ তা স্বীকার করতে রাজি হয়নি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন দেশটির প্রান্তিক (মার্জিনাল) কূপের মালিকেরা, বলেন জেলডিন। তাঁর দেওয়া হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস কূপের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ শতাংশই ছোট ও কম উৎপাদনশীল কূপ, যার অনেকগুলোই পারিবারিক জমিতে।
নতুন প্রস্তাবে বিভিন্ন ধরনের কূপস্থলের জন্য আলাদা ও বাস্তবায়নযোগ্য মান নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যাতে একটি পরিবারের ছোট কূপকে বড় কার্যক্রমের মতো একই মাপে মাপা না হয়।
প্রস্তাবে তথাকথিত ‘সুপার এমিটার’ কর্মসূচি বন্ধের কথাও বলা হয়েছে; জেলডিনের ভাষায়, কর্মসূচিটি অপ্রয়োজনীয়, অকার্যকর এবং দুর্বল আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
তেলের সঙ্গে উঠে আসা প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রস্তাবে পুরনো যুক্তিসংগত মান ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে: ৯৫ শতাংশ দক্ষ ফ্লেয়ারিং বা অন্য নিয়ন্ত্রণ—সব গ্যাস বিক্রয় লাইনে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতার বদলে, কারণ অনেক উৎপাদন এলাকায় এমন লাইন নেই বলেই তিনি উল্লেখ করেন।
জেলডিন বলেন, মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা ইপিএর মূল লক্ষ্য, এবং তা বদলাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী এমন মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যা উৎসগুলো বাস্তবে অর্জন করতে পারে।




