দেশে গড় মাসিক স্বাস্থ্য ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে, চিকিৎসার খরচে চাপে পড়া পরিবার বেড়ে ৯২ শতাংশ: ঢাকায় সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী

দেশের মানুষের গড় মাসিক স্বাস্থ্য ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়া পরিবারের হার ২০০৫ সালের ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে সংঘটিত সব অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোর হাতে দমনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে, সে জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার, জবাবদিহি ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্যসেবায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থার সংকট বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রশিক্ষিত ফার্মেসির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে তিনি জানান।
তাঁর ভাষায়, এই নির্ভরতার ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে এক লাখের বেশি নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল ক্যানসার চিকিৎসার খরচ কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফার্মেসি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করা এবং আইনি কাঠামোর আওতায় আনার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নারওয়ালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



