মারা যাওয়া সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়দের প্রায় ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে সিটিইর প্রমাণ: নতুন গবেষণা

বুধবার প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, ১৫ বছরের একটি সময়ে মারা যাওয়া সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়দের প্রায় ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি বা সিটিই নামের ক্ষয়িষ্ণু মস্তিষ্ক রোগের প্রমাণ ছিল।
জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছে বোস্টনভিত্তিক একটি দল। ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া এনএফএল খেলোয়াড়দের মধ্যে এই রোগের আনুমানিক বিস্তার তারা পরীক্ষা করেছে। গবেষকদের মতে, এই খেলোয়াড়দের মধ্যে সিটিইর আনুমানিক হার সাধারণ জনগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের নমুনায় পাওয়া হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ২ হাজার ৩৬২ জন মৃত সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়, যারা গড়ে পাঁচ বছর লিগে খেলেছেন।
যে প্রায় ৪০০ খেলোয়াড়ের মস্তিষ্ক পরীক্ষার জন্য দান করা হয়েছিল, তাদের ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশের মস্তিষ্কে সিটিইর প্রমাণ মিলেছে।
গবেষকরা বলেছেন, এই ফলাফলই প্রথমবারের মতো ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া সব সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়ের মধ্যে সিটিই কতটা বিস্তৃত ছিল তা অনুমান করার চেষ্টা। আগের বিশ্লেষণগুলো সীমাবদ্ধ ছিল কেবল যাদের মস্তিষ্ক গবেষণার জন্য দান করা হয়েছিল তাদের মধ্যে।
এই রোগের সঙ্গে যুক্ত শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষয় এবং টাউ প্রোটিনের জমা। টাউ প্রোটিনের জমা আলঝেইমার রোগের সঙ্গেও যুক্ত একটি বৈশিষ্ট্য।
সাধারণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পার্থক্যটি বড়। গবেষণার লেখকদের মতে, কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্রেন ব্যাংকগুলোর মস্তিষ্কের নমুনার ১ শতাংশেরও কমে সিটিইর প্রমাণ থাকে।
তবে মস্তিষ্কে সিটিই-সংক্রান্ত পরিবর্তন থাকলেই যে একজন ব্যক্তি ডিমেনশিয়া বা জ্ঞানীয় ক্ষমতার অবনতির শিকার হবেন, তা নয়। এই অবস্থা থাকা কেউ কেউ কখনও লক্ষণীয় কোনো উপসর্গই নাও পেতে পারেন।
গবেষকরা অনুমান করেছেন, বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত সাবেক খেলোয়াড়দের প্রায় ২৭ শতাংশের ডিমেনশিয়া ছিল। সিটিই আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আচরণের দায়িত্বে থাকা মস্তিষ্কের অংশগুলোরও ক্ষতি করতে পারে; সম্ভাব্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বিষণ্ণতা, স্মৃতির সমস্যা, তীব্র মেজাজ পরিবর্তন ও অন্যান্য আচরণগত অসুবিধা।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ইয়র্গোস ট্রিপোডিস মাস জেনারেল ব্রিগহামের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা জানেন এই ফলাফল জীবিত খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, তারা এবং অন্যরা সহায়তা দিতে পাশে আছেন এবং সিটিই নিয়ে যারা বেঁচে আছেন তাদের জন্য আশা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ব্রেন ব্যাংকের আবিষ্কারগুলো জীবদ্দশায় রোগ নির্ণয়ের অনেক কাছাকাছি নিয়ে গেছে; তখন কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
এই ফলাফলের আগে আগস্টে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মারা যাওয়া সাবেক এনএফএল খেলোয়াড়দের অন্তত প্রতি চারজনে একজনের সিটিই ছিল। ওই গবেষণা প্রকাশের পর এনএফএল এক বিবৃতিতে বলেছিল, কনকাশন ও মাথায় আঘাত কমানোর কৌশল বাস্তবায়নসহ ফুটবলকে নিরাপদ করার জন্য লিগ ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে।
নিজের জীবন নেওয়া বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা এনএফএল খেলোয়াড়ের মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক বিশ্লেষণে সিটিই পাওয়া গিয়েছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন জুনিয়র সেউ, ডেভ ডুয়ারসন ও অ্যারন হার্নান্দেজ।



