মাদারীপুরের বাহেরান্দীতে জুলাই যোদ্ধা তামিমের বাড়িসহ অন্তত ৫০ বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে জুলাই যোদ্ধা তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার সকালে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে তাদের সঙ্গে থেকে তাঁদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন তাঁদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তামিম মাতুব্বর সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহেরান্দী গ্রামের বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের সঙ্গে একই এলাকার এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে দেখা দেয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, হামলায় তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। ঘটনার পর বাহেরান্দী গ্রামে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় সদর থানার ওসি একটি পক্ষের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর প্রতিপক্ষের লোকেরা তাঁদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত বাচ্চু মোড়লকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




