রাশিয়ার ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান পেল ইথিওপিয়া, আসছে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও
রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান পেয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটি আরও চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি কিনবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।
বুধবার মস্কোতে দুই দিনের রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন আবি আহমেদ। এই সম্মেলনে রাশিয়া আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে।
আবি আহমেদ জানান, মস্কোর সঙ্গে থাকা একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমানগুলো নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই এসে পৌঁছেছে। দ্রুত সরবরাহে সহায়তার জন্য তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য তৈরি এস-৪০০ ব্যাটারিগুলো কবে আসবে, সেই তারিখ তিনি জানাননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন এই সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার ‘আগ্রাসন আগাম প্রতিরোধ’ করার সক্ষমতা বাড়াবে। পরে একই দিনে আরেকটি এক্স পোস্টে তিনি যুদ্ধবিমানগুলোকে সদ্য মোতায়েন করা উল্লেখ করে বলেন, এগুলো ইথিওপিয়ার আকাশসীমা রক্ষা করবে।
এই কেনাকাটা এমন সময়ে এল, যখন ইথিওপিয়ার বাহিনী উত্তরের তিগ্রাই অঞ্চলে নতুন করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়ছে এবং প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলেও আলাদা বিদ্রোহ চলছে।
তিগ্রাইয়ের লড়াইয়ে সম্প্রতি বড় পরিবর্তন এসেছে। তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) যোদ্ধারা সরে যাওয়ার পর ৪ অক্টোবর সরকারি সেনা ও মিত্র বাহিনী আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলেতে প্রবেশ করে। এরপর সরকারি বাহিনী অন্য শহরগুলোতেও এগিয়ে যাওয়ায় টিপিএলএফ আরও এলাকা হারিয়েছে।
আদ্দিস আবাবা তিগ্রাইয়ের জন্য ছয় মাসের একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছে, তবে লড়াই থামেনি। গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন সম্প্রচারে টিপিএলএফের এক কমান্ডার প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আর বুধবার উত্তর-পশ্চিম তিগ্রাইয়ে সরকারপন্থী সেনাদের ওপর হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি।
এই নতুন যুদ্ধ কার্যত ২০২২ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় সই হওয়া শান্তিচুক্তিকে অকার্যকর করে দিয়েছে। ওই চুক্তিতে দুই বছরের লড়াই শেষ হয়েছিল, যাতে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাবে প্রায় পাঁচ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
সরকারি বাহিনীকে লড়তে হচ্ছে ফানো নামের আমহারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও, যারা ২০২৩ সাল থেকে ফেডারেল সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
ইথিওপিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক অংশীদারত্ব বাড়ার সর্বশেষ লক্ষণ এই ঘোষণা। ২০২১ সালের জুলাইয়ে আদ্দিস আবাবায় দুই সরকার একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন।
জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা প্রকাশনা জেনস জানিয়েছিল, বিমানবাহিনীর ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ইথিওপিয়া সদ্য পাওয়া রাশিয়ার ইয়াক-১৩০ উন্নত প্রশিক্ষণ জেট প্রদর্শন করেছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আফ্রিকার বড় অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ জোগান দিয়েছে রাশিয়া, যা মহাদেশটির তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কো আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক চাইছে। বুধবার শুরু হওয়া রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে আফ্রিকার নেতারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছেন।




