সকাল ৮টায় নিজের ভোট দিলেন মির্জা ফয়সল আমীন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ‘নিরঙ্কুশ জয়ের’ প্রত্যাশা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নিজের ভোট দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে ও পরে সেখানে উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন মির্জা ফয়সল আমীন।
ভোটপ্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আমি ভোট প্রদান করেছি। প্রত্যাশা বড়সড়ো জয়। আমরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করব, ইনশাআল্লাহ। আমি এখন বিভিন্ন কেন্দ্রে যাব এবং দেখার চেষ্টা করব কী অবস্থা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা নিঃসন্দেহে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। আমি কোনো শঙ্কা দেখছি না। সব ভোটারই আমার ভোটার, সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবে। প্রশাসন যদি তাদের বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেবে।’
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আজ আবহাওয়াটা একটু খারাপ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন।
অন্যদিকে ১১ দল মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোট দিয়েছেন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। তিনিও কেন্দ্রে প্রবেশের আগে ও পরে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ভোট দেওয়ার পর দেলাওয়ার হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন। কেবল ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, এ জন্য বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলার কিছু নাই। আর একটু সময় গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা যাবে।’
তবে তিনি একটি অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, সেখানে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে কোনো ছবি দেওয়া নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে বুঝব তিনি সেই ব্যক্তি নাকি অন্য কেউ। এখানে প্রক্সি দিতে পারে’ — বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেখার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, পুরো নির্বাচন যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে হচ্ছে, তাই সুষ্ঠু হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকার, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবং প্রশাসনের ওপর।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন — তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন, যাদের মধ্যে মির্জা ফয়সল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেনই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়; এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদকে ২৫৫ ভোটে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।


