সাভারে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে, থানায় লিখিত অভিযোগ

ঢাকার সাভারে সাইমুন ইসলাম হৃদয় (২৭) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ আমলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লায় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পশ্চিম পাশে বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনে মারধরের ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার সাইমুন ইসলাম হৃদয় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্তের নাম সাইফ এমডি এনাম (২৭); তিনি সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সাইমুন ইসলাম হৃদয় ও অভিযুক্ত সাইফ এমডি এনাম দুজনেই সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ব্যাচমেট ছিলেন। কলেজে অধ্যয়নের সময় থেকেই দুজনের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এনাম মেডিক্যাল কলেজের পশ্চিম পাশে বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনের রাস্তায় ভুক্তভোগীকে একা পেয়ে পথরোধ করেন সাইফ। ভুক্তভোগী বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অজুহাতে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে সাইফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
সাইমুন ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। তখন হঠাৎ সাইফ মোটরসাইকেল নিয়ে আমার পথরোধ করে। সে আমার সহপাঠী ছিল। সে আমাকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।’ তাঁর ভাষ্য, সাইফের বাবা তখন সংসদ সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন বলে কলেজে সাইফের তোষামোদকারীদের একাধিক গ্রুপ তৈরি হয়; তাঁরা সেসব এড়িয়ে চলতেন বলেই সাইফ তাঁদের প্রতি নাখোশ ছিল এবং এসব কারণেই হামলা হয়ে থাকতে পারে।
হৃদয় আরও বলেন, সাইফ তাঁকে হুমকি দিয়ে ‘বিএনপি করস, তোর কোন বাপ আছে ফোন দে’—এমন মন্তব্য করেন এবং বলতে বলতেই চড়-থাপ্পড় দেন। তিনি জানান, তিনি সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন এবং ওসি বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা রওশন আক্তার চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি; ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে কিল-ঘুষি ও গালিগালাজের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে; তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



