কুইন্সল্যান্ডে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ মন্ত্রী হলেন আমান্ডা স্টোকার, পুরোনো মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ আমান্ডা স্টোকার। তাঁর পুরোনো কিছু মন্তব্য সামনে আসায় নারী সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্টোকার শনিবার এই দায়িত্বে নিয়োগ পান। তাঁর দপ্তরের আওতায় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। আগের মন্ত্রী আমান্ডা ক্যামের পদত্যাগের পর তিনি এই পদে আসেন।
উদ্বেগের সূত্র ২০২৩ সালে স্বাধীন থিংকট্যাংক মেনজিস রিসার্চ সেন্টারে প্রকাশিত তাঁর একটি মতামত লেখা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, অভিযোগগুলোকে সাবধানে প্রমাণ যাচাই না করে বিশ্বাস করার সাম্প্রতিক প্রবণতা নিরপরাধ অভিযুক্তদের ক্ষতি করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, মানুষকে ‘অন্ধভাবে’ বিশ্বাস করা উচিত নয়।
সাবেক ফেডারেল সিনেটর স্টোকার এর আগেও বারবার যৌন হামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং কিছু অভিযোগকে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ বলে ইঙ্গিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার গ্রেস টেম ২০২১ সালে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বাইরের পদে স্টোকারের নিয়োগের সমালোচনা করেছিলেন। নতুন নিয়োগের পর তিনি একে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সমাজসেবা খাতের কিছু মানুষ প্রকাশ্যে স্টোকারের নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কুইন্সল্যান্ডে পারিবারিক ও যৌন সহিংসতার শিকারদের সহায়তায় কাজ করা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। সহায়তা সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের সমালোচনা না করার জন্য তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে এবং কারও কারও সরকারি অর্থায়ন কাটা হয়েছে।
স্টোকার অল্প বয়সেই রক্ষণশীল রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। গর্ভপাতবিরোধী সমাবেশে তিনি প্রধান বক্তা ছিলেন এবং ২০১৮ সালে লিবারেল ন্যাশনাল পার্টির ‘ক্রিশ্চিয়ান সোলজার্স’ অংশের সমর্থনে সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি ২০২২ সালে সিনেট ছাড়েন এবং ২০২৪ সালে কুইন্সল্যান্ড পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন।
তাঁর ২০২৩ সালের লেখায় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সংস্কারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ধর্ষকদের নাম প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার মতো পরিবর্তন ছিল। স্টোকার লিখেছিলেন, এই পরিবর্তন অভিযুক্ত ব্যক্তির সুনামের ক্ষতির বিরুদ্ধে একটি ছোট সুরক্ষা কেড়ে নেয়, বিশেষ করে যেসব মামলা বিচারে যাওয়ার মানদণ্ডই পূরণ করে না।




