স্পেনে ট্রেন সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহত: তিন দিনের শোক শুরু, স্বজনদের জন্য ডিএনএ কেন্দ্র

স্পেনে উচ্চগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তিন দিনের শোক পালন শুরু হয়েছে। চলতি বছর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় এমন দুর্ঘটনা। নিহতদের শনাক্তে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র খুলেছে সিভিল গার্ড, আর ধ্বংসস্তূপে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছে জরুরি সেবার কর্মীরা।
দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণের আন্দালুসিয়া অঞ্চলগামী লাইনে। একটি ট্রেন ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত রেনফের, অন্যটি বেসরকারি কোম্পানি ইরিওর। ইরিওর ট্রেনটি থেমে যাওয়ার পর পেছন থেকে রেনফের ট্রেনটি তাতে ধাক্কা দেয়; আঘাতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে পড়ে উরদা শহরের কাছে।
কর্মকর্তারা বুধবার জানিয়েছেন, আরও ১০৭ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনাটি স্পেনের রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছেন, একটি “ভুল” ও “ব্যাখ্যাতীত পরিস্থিতি” এই সংঘর্ষের দিকে নিয়ে গেছে।
জরুরি সেবার কর্মীরা রাতভর ধ্বংসাবশেষে তল্লাশি চালিয়ে আরও ভুক্তভোগী খুঁজেছেন; বিকৃত ধাতব অংশ সরাতে ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কাস্তিয়া-লা মানচা আঞ্চলিক সরকারের প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাজে বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ “বগিগুলোর তলদেশে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি”।
সিভিল গার্ড মাদ্রিদ, তোলেদো, কর্দোবা ও সেভিয়া—এই চার শহরে কার্যালয় খুলেছে, যেখানে স্বজনেরা ডিএনএ নমুনা দিয়ে নিহতদের শনাক্তে সহায়তা করতে পারবেন। কাস্তিয়া-লা মানচা ও মাদ্রিদে রক্তদান কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
মাদ্রিদের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা গ্রামের একটি স্কুলে স্বজনদের খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে রেড ক্রসের কর্মীরা আগত মানুষদের সহায়তা দিচ্ছেন; কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রেড ক্রসের মনোবিজ্ঞানী কারমেন গার্সিয়া বলেন, সামনে “দীর্ঘ ও কঠিন সময়” অপেক্ষা করছে, কারণ “প্রত্যেকেই নিজের মতো করে এই শোক সামলাবেন”। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে আছেন ধাক্কা সামলাতে না-পারা মানুষ, যাঁরা এখনো ঘটনাটি মেনে নিতে পারেননি; আছেন ক্ষুব্ধ মানুষ, দুঃখী ও উদ্বিগ্ন মানুষ। শোকের এই পর্ব জটিল হবে।”
এর আগে গত জানুয়ারিতে একই লাইনে আন্দালুসিয়ার আদামুজ শহরের কাছে রেনফে ও ইরিওর দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। এবারও একই দুই কোম্পানির ট্রেন এবং একই লাইন দুর্ঘটনায় জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “স্পেনের মতো একটি দেশের পক্ষে একই বছরে দুটি উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।” দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা বা অবহেলা প্রমাণিত হলে তা “সর্বোচ্চ কঠোরতা” দিয়ে মোকাবিলা করা হবে বলেও তিনি বলেন।
প্রথম শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সিভিল গার্ডের ৩১ বছর বয়সী সদস্য হোসে মানুয়েল চাকোন। জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানিয়েছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে পিপলস পার্টির একজন সাবেক মন্ত্রী এবং ছুটিতে থাকা কয়েকজন বিদেশিও থাকতে পারেন।
বিরোধী পিপলস পার্টির নেতা আলবের্তো নুনিয়েজ ফেইহো ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত এবং স্পেনের পুরো রেল নেটওয়ার্কের “সম্পূর্ণ ও স্বাধীন পর্যালোচনা” দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “স্পেনের অধিকার আছে জানার—এর অবকাঠামো নিয়ে কী ঘটছে।”


