ইউরোপে প্রজন্মের সম্পদ-ব্যবধান: বয়স্ক পরিবার তরুণদের চেয়ে আট গুণের বেশি ধনী
ইউরোপে বয়স্ক পরিবারগুলোর সম্পদ তরুণ পরিবারগুলোর তুলনায় আট গুণের বেশি। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) ২০২৩ সালের হাউসহোল্ড ফাইন্যান্স অ্যান্ড কনজাম্পশন সার্ভের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ইউরোজোনসহ মোট ২২টি ইউরোপীয় দেশে ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন পরিবারের মধ্যম নিট সম্পদ প্রায় ২৫ হাজার ইউরো, যেখানে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের পরিবারের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ইউরো।
নিট সম্পদ বলতে সম্পত্তি, গাড়ি, মূল্যবান জিনিস ও সঞ্চয় থেকে ঋণ বাদ দিয়ে হিসাব করা সম্পদকে বোঝানো হয়েছে। ৩৫ বছরের কম বয়সীরা মোট পারিবারিক সম্পদের মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশের মালিক, আর সবচেয়ে বড় অংশ ২৪ শতাংশ রয়েছে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের হাতে।
দেশভেদে এই ব্যবধানে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফিনল্যান্ডে ৩৫ বছরের কম বয়সীরা সম্পদের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশের মালিক, যা জরিপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন; সেখানে ৫৫ বছরের বেশি বয়সীরা ৭১ শতাংশের বেশি সম্পদের মালিক। আয়ারল্যান্ডে তরুণদের অংশ ১ দশমিক ৪ শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ১ দশমিক ৬, গ্রিসে ১ দশমিক ৮ এবং জার্মানিতে ২ শতাংশ।
মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে সম্পদ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে আছে। লিথুয়ানিয়ায় ৩৫ বছরের কম বয়সীদের অংশ ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের অংশ ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ক্রোয়েশিয়ায় তরুণদের অংশ ১২ দশমিক ৩, স্লোভাকিয়ায় ১০ দশমিক ১, এস্তোনিয়ায় ৯ দশমিক ৮ এবং মাল্টায় ১১ দশমিক ১ শতাংশ।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবায় কাটছাঁট নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ১১টির বেশি ইউরোপীয় দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেছেন, তাঁরা আর বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় থাকার আশা করেন না।
আবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক তরুণ তাঁদের বাবা-মা বা দাদা-দাদির পক্ষে সম্ভব ছিল এমন সুবিধা আর পাচ্ছেন না। ইউরোপীয় সোশ্যাল অবজারভেটরির এভলিন অ্যাস্টর আল জাজিরার কাউন্টিং দ্য কস্ট অনুষ্ঠানে বলেন, ভাড়া ও মালিকানা—দুই বাজারেই বাড়ির দামে শক্তিশালী বৃদ্ধি দেখা গেছে।
অ্যাস্টর বলেন, এতে বৈষম্যের অনুভূতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে, কারণ সাধারণ পরিবার ভাড়া দিতে বা বাড়ি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, অথচ পুঁজি থাকা ধনীরা ইউরোপের আবাসন বাজারে বড় বিনিয়োগ করতে পারছেন।
২০০০ সালের পর থেকে ইউরোজোন, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রে খাদ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও গৃহস্থালি বিলসহ দৈনন্দিন পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, হাঙ্গেরিতে দাম তিন গুণের বেশি বেড়েছে, যা তালিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে দাম সবচেয়ে তীব্রভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর থেকে, কারণ এসব দেশের অনেকেই রুশ জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল।
২০২২ সাল পর্যন্ত দাম বছরে গড়ে প্রায় ২ শতাংশ করে বাড়ছিল; ওই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছায় ৯ দশমিক ২ শতাংশে। এই ঊর্ধ্বগতি মূলত জ্বালানি ব্যয়ের কারণে হয়েছিল। মূল্যস্ফীতি পরে কমলেও কোভিড মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের মূল্যবৃদ্ধি উল্টে যায়নি।


