লন্ডনে মন্টিনিগ্রোর নতুন দূতাবাস নিয়ে প্রতিবেশীর মামলা, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের অভিযোগ

লন্ডনের পিমলিকো এলাকার কেমব্রিজ স্ট্রিটে একটি পাঁচ শয়নকক্ষের পারিবারিক বাড়ি মন্টিনিগ্রোর দূতাবাসে রূপান্তরিত হওয়ার পর প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ এখন আদালতে গড়িয়েছে। বিষয়টি পৌঁছেছে একজন হাইকোর্ট বিচারকের দপ্তর পর্যন্ত।
বিরোধের শুরুটা পতাকা নিয়ে। এ বসন্তে এক বাসিন্দা কাউন্সিলের কাছে দেওয়া আপত্তিতে লেখেন, নতুন দূতাবাসের ‘পতাকাদণ্ড আর বাহারি পতাকা’ কেমব্রিজ স্ট্রিটের গ্রেড-২ তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর মাঝে চোখে বিঁধছে। আরেকজন মন্টিনিগ্রোর সোনালি কিনারাওয়ালা লাল পতাকাকে ‘আড়ম্বরপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি থমাস কিউবিটের নকশা করা প্রয়াত-রিজেন্সি ধাঁচের শান্ত, মার্জিত সাদা সম্মুখভাগের সঙ্গে মানানসই নয়।
পরিকল্পনা অনুমতি ছাড়াই পতাকাদণ্ড ও ফলক বসানোয় ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক বাসিন্দা। পরে পশ্চিম বলকান দেশটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক (চার্জ দ্যাফেয়ার্স) সান্ধ্যকালীন পানীয় ও হালকা খাবারের আপ্যায়নের আয়োজন করলে কেউ কেউ নরম হন। তবে এক বাসিন্দার শুকনো মন্তব্য ছিল, আপ্যায়নটা একেবারে শুরুতে করলেই কূটনৈতিক হতো।
তবে সেই আপ্যায়ন সবাইকে মানাতে পারেনি। দূতাবাসের অনিচ্ছাকৃত প্রতিবেশী ডায়ানা সিম্পসন বিষয়টি আদালতে তুলেছেন। ৩৫ বছর বয়সী সিম্পসন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক; তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে কেমব্রিজ স্ট্রিটের বাড়িতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাস করছেন। তাঁর বাবা ছিলেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক।
সিম্পসন ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনা (জুডিশিয়াল রিভিউ) এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দূতাবাস পরে ব্যবহার পরিবর্তন ও পতাকাদণ্ডের জন্য পরিকল্পনা অনুমতি চাইলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পাশের বাড়িতে রাশিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনে জড়ানো একটি দেশের দূতাবাস আসার প্রভাব বিবেচনায় নেয়নি।
সিম্পসন ক্লিনিক্যাল উদ্বেগ, লং কোভিড ও ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধিতা ভাতা পান। আদালতে দেওয়া আবেদনের যুক্তিবিবরণীতে তিনি বলেছেন, দূতাবাস আসাটা তাঁর জন্য এতটাই অস্বস্তিকর যে রাতের ঘুম নিয়মিত বিঘ্নিত হয়।
তাঁর ভাষ্যে, অনেক সময় আজীবনের নিজের শোবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র ঘুমাতে হয়—কখনো আগেভাগেই, কখনো মাঝরাতে কোনো শব্দ শুনে দূতাবাস থেকে কেউ তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ছে এমন ‘আদিম ভয়ের’ প্রতিক্রিয়া থেকে, যদিও তিনি জানেন সেই সম্ভাবনা খুবই কম এবং প্রতিক্রিয়াটি বেশির ভাগই অযৌক্তিক।
মানবাধিকার ও সমতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সিম্পসন বলেছেন, এই বাড়িতে আজীবন থাকার সুযোগ থাকবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন; এখন থাকা আদৌ সম্ভব কি না, তা ভাবতে হচ্ছে। বাড়ি ছাড়তে হলে তাঁকে এলাকার ঘনিষ্ঠ স্থানীয় সম্প্রদায় থেকেও ছিটকে যেতে হবে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে সিম্পসন বলেছেন, তিনি নিজের মামলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিল তাঁর শারীরিক-মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নেয়নি, অযৌক্তিক আচরণ করেছে এবং পররাষ্ট্র দপ্তর অনুমতি দেওয়ার পর আপত্তির বিষয়ে মন বন্ধ রেখে ত্রুটিপূর্ণ গণশুনানি করেছে।
জবাবে ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিল অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিরক্ষা বিবরণীতে লিখেছে, ‘দাবিকারীর বাড়ি কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে হস্তক্ষেপের কোনো যুক্তিসংগত ভিত্তি নেই।’ কাউন্সিল পূর্ণ শুনানি ছাড়াই সংক্ষিপ্ত রায় (সামারি জাজমেন্ট) চাইছে।
পিমলিকোর এই মামলাটি রাজধানী লন্ডনে জায়গা খুঁজতে থাকা ছোট দেশগুলোর মিশন আর বাসিন্দাদের মধ্যে টানাপোড়েনের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।


