রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এ পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করল রসাটম

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রসাটম এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রসাটম ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালানটি একটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে সম্প্রতি বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
এর আগে ইউনিট-১-এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানির সব চালান সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছায়। ওই রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর রিফুয়েলিং হওয়ার কথা রয়েছে।
রূপপুর প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর জ্বালানি কন্টেইনারগুলো একটি নির্দিষ্ট ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হয়। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও পারমাণবিক নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সব জ্বালানি অ্যাসেম্বলিকে বাধ্যতামূলক ভিজ্যুয়াল ও ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে বাংলাদেশ, জেনারেল কনট্রাক্টর ও জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এই পরিদর্শন পরিচালিত হবে।
২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ইউনিট-১-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রারম্ভিক লোডিং সম্পন্ন করে। এরপর রিঅ্যাক্টরটি এ মাসেই তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে পৌঁছেছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ ও পরবর্তী পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক অপারেশনের আগে ইউনিটটিকে পাওয়ার অ্যাসেনশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাভ করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে রাশিয়ার নকশা করা দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এই প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।



