একই পণ্যে একেকজনকে একেক দাম: ডেল্টা, উবারসহ নয় কোম্পানির কাছে তথ্য চাইল যুক্তরাষ্ট্রের এফটিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) দেশটির বড় কয়েকটি এয়ারলাইন, রাইডশেয়ার কোম্পানি ও খুচরা বিক্রেতার কাছে তথ্য চেয়েছে—তারা কীভাবে অ্যালগরিদম ও লয়্যালটি কর্মসূচি ব্যবহার করে গ্রাহক ও চালকদের জন্য একেকজনকে একেক দাম ও একেক মজুরি নির্ধারণ করছে, তা জানতে চেয়েছে সংস্থাটি।
তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি কোম্পানি হলো ডেল্টা, ইউনাইটেড, জেটব্লু, লিফট, উবার, ডোরড্যাশ, ইনস্টাকার্ট, টার্গেট ও ওয়ালমার্ট।
এই তদন্তের আগে এমন সব অনুসন্ধান ও মামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ উঠেছে—ক্রেতাদের আগের কেনাকাটার ইতিহাসের ভিত্তিতে তাদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাম নেওয়া হয় এবং চালকদের ব্যক্তিগত ইতিহাসের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া দেওয়া হয়।
এফটিসির চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংস্থাটি সেই অস্বচ্ছ পদ্ধতিটি খতিয়ে দেখবে, যা এসব খাতের কিছু কোম্পানি হয়তো ব্যবহার করছে—একই পণ্য বা সেবার জন্য ভোক্তা কত দাম দেবেন বা গিগ কর্মী কত মজুরি পাবেন, তা নির্ধারণে।
সংস্থাটির ভাষ্যে, মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা মার্কিন পরিবারগুলোর বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি করছে অস্বচ্ছ ও কখনো কখনো বিভ্রান্তিকর দাম নির্ধারণের চর্চা, যার মধ্যে ‘সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং’ বা নজরদারিভিত্তিক দাম এবং ডলার জেনারেল ও কনভেনিয়েন্স স্টোরগুলোর অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
কোম্পানিগুলোকে এমন তথ্য দিতে হবে, যাতে সংস্থাটি মূল্যায়ন করতে পারে—লয়্যালটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বা ‘সুপার-ইন্টেলিজেন্স’ অ্যালগরিদম দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মতো বিষয়ের ভিত্তিতে টিকিট, রাইডশেয়ার, খাবার ডেলিভারি বা অন্য পণ্য-সেবার দাম একজনের ক্ষেত্রে এক রকম আরেকজনের ক্ষেত্রে আরেক রকম হচ্ছে কি না।
তবে এফটিসির এখতিয়ারের সীমাও রয়েছে। ব্যাংকিং ও এয়ারলাইন ছাড়া অন্যান্য খাতে ‘অন্যায্য বা বিভ্রান্তিকর কাজ’ তদারকির দায়িত্ব সংস্থাটির; ফলে নাম থাকা এয়ারলাইনগুলোর ওপর এটি কোনো জরিমানা বা বিধি আরোপ করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং এবং ক্রেতাদের অভ্যাস ও অনলাইন তথ্যের ভিত্তিতে ভিন্ন দাম বসাতে পারে এমন ইলেকট্রনিক শেলফ লেবেল নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।
এই অনুসন্ধানের আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাইডেন প্রশাসন সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল; তখন ম্যাককিনসে, জেপিমরগান চেজসহ ভোক্তামুখী কোম্পানিগুলোকে এ ধরনের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
এফটিসি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, কোনো ব্যক্তির সঠিক অবস্থান বা ব্রাউজার ইতিহাসের মতো তথ্য প্রায়ই ব্যবহার করা হয় একই পণ্য ও সেবার জন্য একেক ভোক্তাকে একেক দাম দেখাতে।
তবে এই তদন্তে ভোক্তা আইন বা কোম্পানিগুলোর চর্চায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সাবেক এফটিসি কমিশনার রোহিত চোপড়া, যিনি এখন ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন বিজনেস অ্যান্ড কনজিউমার প্রটেকশন এজেন্সির প্রধান, বলেছেন—এ ধরনের গবেষণাগুলো এমন অর্থবহ প্রতিবেদন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত বিধি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।




