যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাবিদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিলভিয়াকে সরিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাবিদকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আটলান্টিক’ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
পত্রিকাটি প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক প্রধানের পদ থেকে এই সপ্তাহে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিলভিয়া এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ইরাকে একটি ইউনিটের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, এই আকস্মিক রদবদল এমন সময়ে ঘটল যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
‘দ্য আটলান্টিক’ জানিয়েছে, সিলভিয়াকে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কোনো কারণ জানানো হয়নি এবং তার জায়গায় কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাও এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এক বছর আগে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদায়ের যে ধারা চলছে, সিলভিয়ার অপসারণ সেই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে জানিয়েছিলেন, ‘জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই ছাঁটাইয়ের লক্ষ্য ছিল সেই কর্মকর্তারা, যারা সামরিক বাহিনীকে পূর্ববর্তী প্রশাসনের নীতি থেকে সরিয়ে যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর ওপর মনোনিবেশ করানোর প্রচেষ্টায় সমর্থন দেননি। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আবারও এমন একটি ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ চালাতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’, যা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। তবে নতুন হামলার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো পক্ষই স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি; এর পরিবর্তে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার পথ বেছে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




