হ্যালি স্টিভেনসের হবু স্বামী ভোট দেবেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে, মিশিগান সিনেট লড়াইয়ে নতুন মোড়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের সাবেক প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনসের হবু স্বামী জেসন টার্কিশ প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি এল-সায়েদকে ভোট দিতে পারবেন না এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে ভোট দেবেন।
ইহুদি ও নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট জেসন টার্কিশ দ্য ডেট্রয়েট নিউজকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বুধবার রাতে মিশিগানের বার্মিংহামে টাউনসেন্ড হোটেলে রিপাবলিকান জুইশ কোয়ালিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত রজার্সের একটি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিশিগানের আইনজীবী টার্কিশ।
টার্কিশ বলেন, তিনি অপেক্ষা করেছেন, দেখেছেন এবং শুনেছেন আবদুল এল-সায়েদ অবস্থান নরম করেন কি না। তাঁর ভাষায়, এল-সায়েদ অবস্থান নরম করেননি, বরং আরও কঠোর হয়েছেন। সাধারণ নির্বাচনের প্রচার যত এগিয়েছে, পরিস্থিতি তত খারাপ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষকে একত্রিত করার বদলে এল-সায়েদ তাদের আরও বিভক্ত করেছেন।
এল-সায়েদের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য তাঁর সম্প্রদায়কে কম নিরাপদ করে তুলছে বলে অভিযোগ করেন টার্কিশ। তিনি বলেন, এল-সায়েদ বারবার ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং ইহুদিদের কলা দামের জন্য দায়ী করার বিজ্ঞাপনের নিন্দা করতে অস্বীকার করেন, যা তাঁর সম্প্রদায়কে ঝুঁকিতে ফেলে। টার্কিশ আরও বলেন, এল-সায়েদ যতবার গণহত্যার কথা বলেন, ইহুদিরা ততবার মৃত্যুর হুমকি পান। তাঁর দাবি, মার্কিন সিনেটের কোনো প্রার্থীকে সম্প্রদায়ের ইহুদিদের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা বেপরোয়া আচরণ করতে তিনি দেখেননি।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্রিমার হাসান পাইকারের সঙ্গে এল-সায়েদের সম্পর্কেরও সমালোচনা করেন টার্কিশ। পাইকার একসময় বলেছিলেন, আমেরিকা ৯/১১ হামলার যোগ্য ছিল। টার্কিশের অভিযোগ, এল-সায়েদ এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে অস্বীকার করেছেন এবং হাসান বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন।
ডেমোক্র্যাট দাতা টার্কিশ কিছু রিপাবলিকানকেও অনুদান দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তকে তিনি দলের ঊর্ধ্বে দেশকে রাখা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এল-সায়েদের প্রতিটি বক্তব্যে অস্পষ্টতা থাকে এবং ঘৃণাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা থাকে, অথচ ঘৃণার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। মিশিগান এই প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
অন্যদিকে হ্যালি স্টিভেনস এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন থেকে সরে আসেননি। সিএনএনকে তিনি বলেন, আমেরিকার অনেক পরিবারের মতো তাঁদের পরিবারও বিভক্ত। তিনি বলেন, তিনি এখনো চান ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এই লড়াইয়ে জিতুক, কারণ এখানে অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদ স্টিভেনসকে পরাজিত করেন।
বুধবার রাতের প্রচার অনুষ্ঠানে মাইক রজার্স এল-সায়েদ সম্পর্কে বলেন, এমন একজনকে মার্কিন সিনেটে যেতে দেওয়া যায় না। রজার্স বলেন, কেউ যদি না জানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু এবং হিজবুল্লাহ-অনুপ্রাণিত হামলার নিন্দা করতে না পারে, তাহলে তাঁর মার্কিন সিনেটে থাকার যোগ্যতা নেই। তবে তাঁর বক্তব্যে টার্কিশের ভোটের প্রসঙ্গ আসেনি।
টার্কিশই প্রথম নন; স্টিভেনসের ঘনিষ্ঠ বলয় থেকে আরও একজন রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। স্টিভেনসের সাবেক প্রচার চেয়ারম্যান আইনজীবী ডেভিড ক্রেমার মঙ্গলবার বলেন, তিনিও রজার্সকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রাইমারির পর স্টিভেনস এল-সায়েদকে সমর্থন জানালেও এরপর একটি ঐক্যের প্রাতরাশের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেননি বা একসঙ্গে উপস্থিত হননি।
এল-সায়েদ দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সমালোচক এবং গাজার যুদ্ধকে তিনি ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেন। ইসরায়েলের যুক্তি, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, এবং হামলার আগে ভবন খালি করার সতর্কতা দিয়ে বেসামরিক হতাহত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।



