প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে বেড়েছে মার্কিন অর্থনীতি, তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে বেড়েছে। ভোক্তা ব্যয়ের স্থিতিস্থাপকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত থেকে আসা তেলের বাড়তি দামের প্রভাবের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির অগ্রিম হিসাবে বলা হয়েছে, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক হারে ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
পূর্বাভাসগুলোর পরিসর ছিল ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে ৪.২ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে প্রকাশিত ৩.৪ শতাংশের হিসাব সেই পরিসরের ওপরের দিকেই রয়েছে।
অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জুড়ে থাকা ভোক্তা ব্যয় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ভোক্তা ব্যয় একই ৩.৮ শতাংশ হারে বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে কম ছাঁটাই ও মাঝারি মাত্রার নিয়োগ ভোক্তা ব্যয়কে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। তবে মজুরি বৃদ্ধি কখনো কখনো মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবারগুলো আগের চেয়ে কম সঞ্চয় করছে এবং ব্যয় মেটাতে জমানো অর্থে হাত দিচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে থাকায় অর্থনীতিবিদরা ভোক্তা ব্যয়ে ধীরগতির আশঙ্কা করেছিলেন।
প্রবৃদ্ধির এই জোরালো চিত্রের সঙ্গে পরিবারগুলোর অর্থনীতি নিয়ে হতাশ মূল্যায়নের তীব্র বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। এই হতাশা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেকর্ড-নিম্ন জনপ্রিয়তায় এবং ভোক্তা আস্থার তীব্র অবনতিতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে। ওই নির্বাচনেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এমন গতিতে বাড়ছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের কিছু কর্মকর্তার বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি-বহির্ভূত প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২ শতাংশের চেয়ে বেশ ওপরে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার তার বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে এবং মূল্যস্ফীতি এখনো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ সাংবাদিকদের বলেছেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় স্থিতিস্থাপক রয়েছে।
তবে এআই-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের কারণে কিছু অর্থনীতিবিদ বলেছেন, শক্তিশালী এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্ভবত অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছরে এআই ব্যয়ের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে, যার প্রতিদান অনিশ্চিত — এটি সরঞ্জাম খাতে ব্যয়ের জন্য একটি নিম্নমুখী ঝুঁকি হতে পারে বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।



