শান্তি আলোচনা ফেরাতে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানকে চিঠি জে ডি ভ্যান্সের

শান্তি আলোচনা আবার শুরু করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি হামলা এড়াতে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। পত্রিকার একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এই যোগাযোগের লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনার জন্য যথেষ্ট অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পায় কি না তা যাচাই করা, যাতে ট্রাম্পকে আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র’ সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা যায়। কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অভিযানটিকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে না এবং আরও সামরিক পদক্ষেপ আসন্ন হতে পারে বলে তিনি বারবার সতর্ক করেছেন। সেই পটভূমিতেই এই চিঠির খবর এলো।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চিঠি এবং এরপর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগে বিস্তারিত শান্তিচুক্তির রূপরেখার বদলে সম্ভাব্য আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস আলাদা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভ্যান্স তাঁর চিঠিতে জোর দিয়েছেন যে নতুন মার্কিন হামলা ঠেকানোর লক্ষ্যে যেকোনো আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে হবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, চিঠি পাঠানোর প্রস্তাব ভ্যান্সই দিয়েছিলেন এবং ট্রাম্প এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে চিঠিটি কখন পৌঁছেছে, তা ওই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।
তবে বুধবার ট্রাম্প ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অস্বীকার করেন যে তিনি ভ্যান্সকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, এই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ সহজ করা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিসের সহায়তা দরকার, এবং ভ্যান্স এগোনোর আগে তাঁর অনুমোদন চেয়েছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার এক্সে লিখেছেন, ইরানের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী মাতৃভূমি রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও ইরান এখনো কূটনীতিকে সফল হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও লিখেছেন, এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেও সাত দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে পারে এমন ধারণা পরীক্ষা করতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক যোগাযোগ চলছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে বলে খবর রয়েছে। তবে আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, আরও হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বিস্তৃত অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর প্রকাশ পেল।




