যুক্তরাজ্যে সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞায় পরিচয়পত্রহীন এক লাখের বেশি কিশোর-কিশোরী বাদ পড়ার ঝুঁকি: অফকম

পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে যুক্তরাজ্যে এক লাখের বেশি ব্রিটিশ কিশোর-কিশোরী সামাজিক মাধ্যম থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যখন আগামী বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা চালু হবে।
যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম বলেছে, প্রায় দেড় লাখ ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীর কাছে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, যেগুলো বয়স-সীমাবদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশের জন্য সম্ভবত প্রয়োজন হবে।
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যম সেবাগুলোতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশে অস্ট্রেলিয়া-ধাঁচের নিষেধাজ্ঞা আগামী বসন্তে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অফকমের প্রধান ডেম মেলানি ডজ সতর্ক করেছেন, ‘অনুপ্রাণিত শিশুরা’ বিধিনিষেধ এড়ানোর উপায় খুঁজবে, যেমনটা অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার অফকম নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি হতে পারে এমন বয়স যাচাই ব্যবস্থাগুলোর একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। এতে চারটি ‘অত্যন্ত কার্যকর’ পদ্ধতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে: সরাসরি সেলফির সঙ্গে একজন ব্যক্তির সরকারি পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখা, ব্যাংকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টধারীর বয়স যাচাই করা, ইয়াং স্কট কার্ডের মতো সরকারি ডিজিটাল পরিচয় সেবা, অথবা সেলফির মাধ্যমে কারও বয়স অনুমান করা।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, মুখের ছবি থেকে বয়স অনুমানের মতো অন্যান্য পদ্ধতির ‘ব্যাকস্টপ’ হিসেবে সম্ভবত সরকারি পরিচয়পত্রের কোনো একটি ধরন প্রয়োজন হবে, কারণ মুখ থেকে বয়স অনুমান কয়েক বছর পর্যন্ত ভুল হতে পারে। এর ফলে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের একটি অংশ বাদ পড়তে পারে বলে জানিয়েছে অফকম।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, এর অর্থ হলো ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র নেই এমন ব্যক্তিদের বয়স-সীমাবদ্ধ সেবাগুলোতে প্রবেশের জন্য সম্ভবত তা সংগ্রহের পদক্ষেপ নিতে হবে।
অফকমের হিসাবে প্রায় দেড় লাখ ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীর পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর-কিশোরী নিষেধাজ্ঞায় বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্রিটেনবাসীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে নয়জনের বেশি পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটগুলোতে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের প্রবেশে গত বছর থেকে কঠোর বয়স যাচাই চালু থাকায় মুখের ছবি থেকে বয়স অনুমান একটি জনপ্রিয় ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে, যা ইঙ্গিত দেয় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার এখনো নিশ্চিত করেনি কোন প্ল্যাটফর্মগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, তবে ধারণা করা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় যেগুলো রয়েছে সেগুলোই হবে: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, কিক, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, টুইচ, এক্স ও ইউটিউব।
মার্চে অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার বলেছিলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আইন জারির পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের একটি ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়েছে। ৯০০ অস্ট্রেলীয় অভিভাবকের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, আইনের আগে যেখানে ৪৯ শতাংশ বলেছিলেন তাঁদের সন্তানদের এক বা একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট রয়েছে, আইনের পর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন তাঁদের সন্তানদের এখনো এক বা একাধিক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
অফকমের প্রধান নির্বাহী ফাঁকি দেওয়ার ঝুঁকি স্বীকার করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি ‘বিশাল সাংস্কৃতিক পরিবর্তন’ হবে। ডজ বলেন, অনুপ্রাণিত শিশুরা বিধিনিষেধ এড়ানোর চেষ্টা করবে—ঠিক যেমন মদ্যপানের আইন কম বয়সীদের মদ্যপান পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না—তবে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই ঝুঁকি কমানোর উপায় থাকবে। এটি সমাজের জন্য বিশাল সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, তাই মানিয়ে নিতে সময় লাগবে এবং সবারই ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি বলেন।
সরকার এ বছরের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করে বিধিমালা জারি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেরা বয়স যাচাই পদ্ধতিগুলো নিয়ে অফকম একটি পরামর্শ প্রক্রিয়াও শুরু করবে, যার পর কোন ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে।


