ইউরোপীয় সুপারকম্পিউটার নেটওয়ার্কে যোগ দিচ্ছে কানাডা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জোট
ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেছেন, কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুপারকম্পিউটার নেটওয়ার্কের অংশ হবে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতায় দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে।
ফন ডার লায়েন বলেন, এই যোগদানের ফলে কানাডার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও গবেষকেরা ইউরোপীয় সুপারকম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তাঁর ভাষায়, কানাডার অগ্রণী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের সঙ্গে এই সুবিধা মিললে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবনী ও নিরাপদ এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে।
ইউরোপীয় সুপারকম্পিউটার নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করে ইউরোএইচপিসি জয়েন্ট আন্ডারটেকিং, যার বাজেট ৮২০ কোটি ইউরো। এই নেটওয়ার্কে রয়েছে ১৪টি সুপারকম্পিউটার, যার কয়েকটি বিশ্বের শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে, ১৯টি এআই-কেন্দ্রিক এআই ফ্যাক্টরি এবং ১০টি কোয়ান্টাম কম্পিউটার।
একই উদ্যোগের অধীনে আগামী বছর সাতটি বিশাল এআই ডেটা সেন্টার হাব বা এআই গিগাফ্যাক্টরি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলোর মোট বিনিয়োগ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি ইউরো।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক ফেলো আন্তন লাইখট বলেছেন, কম্পিউটিং সহযোগিতা এআই ক্ষেত্রে মধ্যশক্তিগুলোর স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আপাতত এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
লাইখট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন গিগাওয়াট মাত্রার ক্লাস্টার তৈরি করছে, তখন বড় আকারের নির্মাণে রূপ না নিলে কোনো সহযোগিতাই সেই নির্ভরতা কাটাতে সাহায্য করবে না।
কানাডার এই সম্পৃক্ততা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচি হরাইজন ইউরোপে দেশটির আগের আংশিক অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
এ পর্যন্ত ইউরোপীয় সুপারকম্পিউটিং নেটওয়ার্কে ৩৮টি দেশ অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও তুরস্কের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশও রয়েছে।


