দনিপ্রোতে ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে রুশ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত, ক্রেমেনচুক ও চেরনিহিভেও প্রাণহানি
ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে বৃহস্পতিবার রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। দনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতভ এই হামলাকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের’ কাজ বলে বর্ণনা করেছেন।
জরুরি সেবা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দনিপ্রোতে রুশ বাহিনী একটি ড্রোন সরাসরি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিক্ষেপ করেছে, যেখানে অনেক মানুষ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই মুহূর্ত পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।’
একই দিনে ইউক্রেনের আরও দুটি শহরের আবাসিক এলাকায় হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। মধ্যাঞ্চলের ক্রেমেনচুকে তিনজন নিহত ও আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
দেশের উত্তরের চেরনিহিভ শহরের কেন্দ্রে হামলায় দুটি শিশু মারা গেছে। সেখানে ২৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ মাস বয়সী একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, হামলায় বাড়ি, দোকান ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফেসবুকে লিখেছেন, কিছু রুশ অলিগার্ক ও রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে রাশিয়া তার জনগণের ওপর কতগুলো ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালিয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জেলেনস্কি আরও বলেছেন, এ কারণেই ইউক্রেন সবসময় বলে এসেছে রাশিয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর জবাবে আমেরিকা ও ইউরোপের ন্যায্য ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জি-৭-এর নতুন ও শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন।
চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল এই হামলাকে ‘অমার্জনীয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এই ঘটনা ন্যায্য ও টেকসই শান্তির জন্য প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মস্কো এমন জায়গাগুলোতে হামলা চালিয়েছে যেখানে ইউক্রেন ড্রোন তৈরি করছিল এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত সরবরাহ পথে হামলা চালানো হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ৬১৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোনের বেশিরভাগই রাশিয়া ভূপাতিত করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।


